চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

কেএসআরএমের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ!

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-৩০ ২৩:৫৯:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৩-৩১ ১৫:৪১:১৬

সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

রড নির্মাণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম’র বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ করেছে আরেক শিল্পগ্রুপ পিএইপি ফ্যামিলি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সিতাকুন্ড কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের পাশে রেলওয়ের জায়গার উপর নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৬০ একর জায়গার উপর বনায়ন করেছে পিএইপি ফ্যামিলি। সেখানে এক লাখের উপর গাছ রয়েছে। কিন্তু ওই বনায়নে যাওয়ার জন্য একটি প্রবেশ পথ নিয়ে দুই শিল্পগ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলছে। বিষয়টি সমাধানে এর মধ্যে দুইটি প্রতিষ্ঠান চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে অভিযোগ করেছে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) সকালে প্রবেশ পথটি কেএসআরএম’র কর্তৃপক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে পিএইচপি’র লোকজন সেই বনায়নে যেতে পারছে না। বর্তমানে জায়গাটি দুটি পক্ষই নিজেদের মালিকানা দাবি করছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে।

পিএইচপি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রবেশপথটি রেলওয়ে থেকে পিএইচপি’র নামে লিজ নেয়া হয়েছে। তবে সেটি নিয়ে কেএসআরএম’র সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। কিন্তু তারা সেটি সুরাহা না করে হঠাৎ করে পথটি বন্ধ করে দেয়। এতে করে ওই বনায়নে দেখাভাল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিচর্যা করা না গেলে সেখানকার গাছপালাগুলো হুমকির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮০ সালে নুরুল আলম নামের এক ব্যক্তি রেলওয়ে থেকে ওই জায়গাটি লিজ নিয়েছিল। পরে কেএসআরএম সেটি রেলওয়ে থেকে নিজেদের নামে কিনে নেয়। তাই সেই জায়গার মালিক বর্তমানে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ,গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাড়বকুন্ড আনোয়ারা জুট মিল গেট এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ের ১ একর ৬৪ শতক জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম ও পিএইচপির সশস্ত্র লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।

দফায় দফায় হামলার খবর পেয়ে সীতাকন্ড থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কিছুক্ষণের জন্য সংঘর্ষ বন্ধ থাকে। তবে পুলিশ চলে যাবার পর উভয়পক্ষ আবারো ধাওয়া পাল্টা–ধাওয়া শুরু করে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষেই শত শত লোকজন জড়ো হয়। তবে উভয়পক্ষই জায়গাটি তাদের বলে দাবি করেছে।

জানা যায়, জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানা থেকে ১৯৬৪ সালে রেলওয়ে অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে জায়গার তৎকালীন মালিকের পৃথক ওয়ারিশরা সেটি পুনরায় লিজ নিয়ে একপক্ষ পিএইচপিকে লিজ দেয়। পরবর্তীতে অন্য এক ওয়ারিশ কেএসআরএমের কাছে দখলসত্ব বিক্রি করে। এতে পিএইচপি ও কেএসআরএম উভয়পক্ষই জায়গাটি তাদের বলে দাবি করছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

গতকালও জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষ হয়। এসময় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দুই পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে গেলে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

পিএইচপি গ্লাস ফ্যাক্টরির ম্যানেজার (প্রশাসন) অভিজিৎ সাংবাদিকদের বলেন, রেললাইনের পূর্বে অবস্থিত আমাদের মিলের শ্রমিক ও আনসারদের থাকার ব্যারাক দখল করে নিয়েছে কেএসআরএম শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা। ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করে তারা কারখানার জানালাসহ বেশ কিছু আসবাবপত্রের ক্ষতি করেছে। আমাদের লিজ নেওয়া জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় তাদের ৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে কেএসআরএম বাড়বকুন্ড প্রজেক্ট ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রেলওয়ের জায়গাটি আমরা লিজ নিয়েছি। এ জায়গা ঘেরা দেওয়ার সময় পিএইচপি গ্লাস ফ্যাক্টরি থেকে প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের শ্রমিকের ওপর হামলা করে। এসময় তারা ব্যাপক গোলাগুলি করে। এ ঘটনায় ৬ জন শ্রমিক আহত হয় বলে জানান তিনি। এদিকে দুই পক্ষের এভাবে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সীতাকুন্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রেলওয়ে লিজকৃত জায়গা দখল বেদখল নিয়ে কেএসআরএম ও পিএইচপি শিল্প প্রতিষ্ঠানের লোকদের ধাওয়া পাল্টা–ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গোলাগুলির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।