চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

ভাড়া বাড়িতেই চলছে চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি’র পাঠদান

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৯ ২৩:৫৮:৪৭ || আপডেট: ২০১৮-০৩-৩০ ২১:১৫:৫৫

সারি বাঁধা চশমার দোকান নিচতলায়। পাশেই রোগ নির্ণয় কেন্দ্র। এর ওপরে দুই ফ্লোরে চলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরের ফ্লোরগুলোতে দেওয়া হয়েছে বাসা ভাড়া। এটি চট্টগ্রামের জামালখান রোডের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে,পাশের অলিগলিতে রয়েছে  বিশ্ববিদ্যালটির আরও একটি ক্যাম্পাস।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে এ ধরনের অসংখ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশনা থাকলেও তা আমলে না নিয়ে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য করে যুগের পর যুগ শিক্ষাবাণিজ্যে ডুবে আছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ক্যাম্পাস রয়েছে নগরীর অলিগলিতে । অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে এই আবাসিক এলাকার ভাড়া বাড়িতে। নিচে মার্কেট, ব্যাংক, হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা মেডিকেল সেন্টার আর ওপরে একটি কিংবা দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। জামালখাঁন সড়কে নিচতলায় চশমার দোকান, পাশেই রোগ নির্ণয় কেন্দ্র এমন একটি ভবনের রয়েছে চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি।

প্রসঙ্গত, চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ১৯৯৯ সালে ঢাকার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবির শাখা ক্যাম্পাস হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এটি স্বতন্ত্র ববিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সরকার ও ইউজিসির অনুমোদন লাভ করে। চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির মূল ট্রাস্টের নাম ‘ইসটিসিডিটি’ বা ‘এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপম্যান্ট ট্রাস্ট’।

ইউজিসি সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের মধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে তাদের ইতিমধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে যাওয়ার কথা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫১টি। এদের মধ্যে ১২টি পুরোপুরিভাবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০০৯ সালের পর অনুমোদন পেয়ে আরো তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ পাস হওয়ার পর সর্বপ্রথম ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ক্যম্পাসে যাওয়ার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালে, তৃতীয় দফায় ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত এবং চতুর্থ দফায় ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কমপক্ষে এক একর, অন্যান্য স্থানের জন্য দুই একর অখণ্ড জমি থাকার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাসেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে জায়গা কেনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি সহকারী রেজিস্ট্রার আজুমান বেগম লিমনা সিটিজি টাইমসকে বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে আমরা আরো চার বছর সময় পাচ্ছি।

চার বছরের জায়গা কিনে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া এবং ভাড়া বাড়িতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে হর্তাকর্তারা উচ্চশিক্ষাকে সংকুচিত করে ফেলেছে। মার্কেটের ওপর দুই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলে ডিগ্রি দিলে সেগুলোর মান ও ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা কেমন হতে পারে তা ভাবনার বিষয়।

উচ্চশিক্ষার জন্য ভাড়া বাড়িতে ক্যাম্পাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা ল্যাব, লাইব্রেরি বা ক্লাসরুমের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকেই অধিক জ্ঞান অর্জন করে থাকে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ মালিকের মনমানসিকতা ব্যবসায়িক। তারা পরিবেশ নিয়ে মোটেই ভাবেন না। এ বিষয়ে তাদের ভাবা উচিত।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ পাস হবার পর, নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে তুলার বাধ্যবাধকতার নির্দেশ প্রদান করার পরও তেমন কোনো ফল হয় নাই। জানা গেছে,  বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শিক্ষার্থী হারাবার আশঙ্কা হতে নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে তুলিতে গড়িমসি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর দুই দশক পেরিয়ে গেলেও মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ লাভ করেছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিভিন্ন শর্ত পূরণ না করায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পাচ্ছে না। স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন ব্যয়বহুল শর্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থায়ী সনদ নিতে আগ্রহী নয়।