চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

‘জার্মান প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৪ ১২:৩৭:২৩ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২৪ ১২:৩৭:২৩

বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান যে মন্তব্য করেছে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বিশ্বের ১২৯টি দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং সুশাসনের অবস্থা নিয়ে এক সমীক্ষার পর জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করে। প্রতিবেদনটি শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।

প্রতিবেদনটির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিবেদরটি করা হয়েছে, সেটির তথ্য তারা কোথায় পেয়েছে? রিপোর্টটি যদি ২০১৫ সাল থেকে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তাহলে সে বছর তো বাংলাদেশে উল্টো ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি বলেন, বিরোধী দল বিএনপি যে অগ্নি-সন্ত্রাস শুরু করেছিল, তখন দেশের সাধারণ মানুষ চরমভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছিলো, তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় হত্যা করা হচ্ছিল, আহত করা হচ্ছিল।

এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র বা নির্বাচন নিয়ে কাজ করেন, তাদের কারো কাছে কখনো তিনি এরকম কোনো সমীক্ষা হচ্ছে বলে শোনেননি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত রক্ষা করা হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, গণতন্ত্রের মানদণ্ড কি আমাদের জার্মানদের কাছ থেকে শিখতে হবে? হিটলারের দেশ থেকে?

২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেসব পরবর্তীকালে বিশ্বের সব দেশ মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ওই নির্বাচন সঠিকভাবে হয়েছে, সবাই অংশ নিয়েছে। ওই নির্বাচনের পরে যদি এই সমীক্ষা হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কারণ আছে।

বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে রিপোর্টে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তার জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলাদেশে এখন ঢাকা থেকেই প্রকাশিত হয় প্রায় তিনশোর বেশি দৈনিক। প্রত্যেকটি সংবাদপত্র কিভাবে লিখছে আপনারা দেখতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি টেলিভিশনের টক শো যদি আপনি দেখেন, সেখানে কি মত প্রকাশের অধিকার নেই, স্বাধীনতা নেই? বাংলাদেশে মোটেই কোনো কিছু সেন্সর করা হচ্ছে না।

রিপোর্টে ১২৯টি দেশের মধ্যে ৫৮টি দেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং ৭১টি দেশকে গণতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

বেরটেলসম্যান স্টিফটুং-এর সমীক্ষায় ২০১৬ সালে তাদের আগের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশে গণতান্ত্রিক এবং ৫৫টি দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে।

১২৯টি দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে যে সূচক এই সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০ নম্বরে। একই অবস্থানে আছে রাশিয়া। উরুগুয়ে, এস্তোনিয়া ও তাইওয়ান আছে এই সূচকের শীর্ষে। আর একেবারে তলায় রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়া।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান অবশ্য বাংলাদেশের নীচে -৯৮ নম্বরে। মিয়ানমারের অবস্থান ১০৪ নম্বরে। অন্যদিকে ভারত আছে বেশ উপরের দিকে- ২৪ নম্বরে। শ্রীলংকার অবস্থান ৪১ নম্বরে। বেরটেলসম্যান স্টিফটুং ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরণের রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে।

তবে তাদের এই সমীক্ষায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ পরিণত গণতন্ত্রের দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।