চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় পটিয়া, প্রস্তুত ২ হাজার ৫৬০ ফুটের সুবিশাল ‘নৌকা মঞ্চ’

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২১ ১০:২৯:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২১ ১৩:১৬:১৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ চট্টগ্রামে আসছেন। সকালে নৌবাহিনীর দুটি অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠান শেষে নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতির পর তিনি পটিয়ায় যাবেন।

সেখানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভাষণের আগে জনসভাস্থল থেকে ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্প চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায়। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দলীয় প্রধানের জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ২ হাজার ৫৬০ ফুটের বিশাল ও অভিনব এক মঞ্চ প্রস্তুত করেছে পটিয়াবাসী। পটিয়ার ইতিহাসে এইবারই প্রথম এত বড় এবং ব্যয়বহুল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নৌকার আকৃতিতে ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয় দুই সপ্তাহ আগে থেকে। মঞ্চ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। এই নৌকাতে দাঁড়িয়েইে আজ বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সন্ধ্যায় মূল মঞ্চের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটিয়া আসনের এমপি শামশুল হক চৌধুরী।

১৭ বছর পর শেখ হাসিনা পটিয়া আসছেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে তিনি ওই বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসেছিলেন। আর ২০১০ সালের শেষ দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে কর্ণফুলী এলাকায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১২ সালে নগরের পলোগ্রাউন্ড এবং ২০১৩ সালে ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেন দলীয় প্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পটিয়ায় কয়েক দিন থেকে সাজসাজ রব। সেখানে দুটি হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরেও ব্যাপকভাবে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। নৌবাহিনীর অনুষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পাশাপাশি পটিয়ায় সড়কপথে তাঁর গাড়িবহর যেতে পারে। এ কারণে নগরের বিভিন্ন সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুধবার চট্টগ্রাম সফরকালে পটিয়ার জনসভাস্থলে চট্টগ্রামের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে ১৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। অন্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তরের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে পটিয়া যাবেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পটিয়ায় জনসভায় তিন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। আমরা আশা করছি, দুপুর ১২টার আগেই জনসভাস্থলে জায়গা থাকবে না। সে কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা আরো লাখো মানুষ যাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে পারে সে জন্য আশপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনসভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি।’

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে ঢুকতে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ টি প্রবেশপথ। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটকে মূল প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। মাঠের দক্ষিণ পাশে রাখা হয়েছে ২ টি প্রবেশপথ। এর একটিতে সমাবেশে নগর ও উত্তর এবং অন্যটিতে দক্ষিণ জেলার নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন। এছাড়াও পটিয়া কলেজ গেইট দিয়ে মহিলাদের জন্য একটি আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, এ মঞ্চে সর্বোচ্চ দুইশ জন নেতা অবস্থান নিতে পারবেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির ৭০ জন নেতা ঠাঁই নিতে পারবেন মঞ্চে। কিন্তু মহানগর ও উত্তর জেলার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ২০ জন করে ৪০ জন নেতার সংখ্যা।

 

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বলেন, `তিন হাজার ফোর্স আমরা মোতায়েন করছি। এর মধ্যে ১৩০০ ফোর্স চট্টগ্রামের বাইরের এবং ১৭০০ ফোর্স জেলা থেকে যাচ্ছে। হেলিপ্যাড থেকে জনসভাস্থলের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। এই পুরো পথটাতে হিউম্যান চেইনের মতো পুলিশ বেষ্টনী থাকবে। জনসভাস্থল পর্যন্ত পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ ‘হিউম্যান ট্রেন’ তৈরি করা হবে।’

তিনি আরো বলেন,‘জনসভাস্থল ও আশেপাশে এসএসএফ, পিজিডি, পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকের চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বেস্টনি তৈরি করা হবে। সাথে থাকবে মোবাইল পার্টি। তাছাড়া পুলিশের প থেকেঞ্জ ৫০টি উচ্চ মাত্রার ‘ক্লোজ সার্কিট’ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে চন্দনাইশ থেকে ক্রসিং পর্যন্ত ৫শ’ ট্রাফিক পুলিশ দেয়া হয়েছে। জনসভার আশপাশে হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোর উপর ও নিচে আইন–শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া সাদা পোশাকে থাকবে পুলিশ সদস্যরা।’