চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

জানাজা শেষে দেশে ফিরছে ২৩ লাশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৯ ১১:১৬:৫১ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৯ ১২:৩৮:৩১

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের নামাজে জানাজা শেষ হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টার দিকে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে এই জানাজা হয়। নিহতদের স্বজন ছাড়াও সাংবাদিক, দূতাবাস ও এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানাজায় শরিক হন। এ সময় নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নেপাল থেকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রিয়ক ও প্রিয়ন্ময়ীর স্বজন সোহাগ পরিবর্তন ডটকমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সকাল ছয়টার দিকে দূতাবাসের সামনে ২৩ বাংলাদেশির লাশবাহী কফিন আনা হয়। এ সময় নেপাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করে।

জানাজা শেষে কফিনগুলো কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে। সেখান থেকে বিমান বাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে এগুলো দেশে আনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় কার্গো বিমানটি রওনা দিয়ে তিনটার মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে।

এদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, লাশবাহী কার্গো বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টারমাক-১ এ অবতরণ করবে। সেখান থেকে লাশগুলো সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানান, ঢাকায় পৌঁছার পরে লাশগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হবে। এরপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যেসব বাংলাদেশির লাশ ফিরছে, তারা হলেন- ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ, কেবিন ক্রু খাজা সাইফুল্লাহ, কেবিন ক্রু শারমিন আক্তার নাবিলা, যাত্রী অনিরুদ্ধ জামান, তাহিরা তানভীন শশী, উম্মে সালমা, মিনহাজ বিন নাসির, রাকিবুল হাসান, মতিউর রহমান, রফিক উজ জামান, এফএইচ প্রিয়ক, আখি মনি, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, আকতার বেগম, হাসান ইমাম, এসএম মাহমুদুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা হক, বিলকিস আরা, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, বেগম হারুন নাহার বিলকিস বানু ও মো. নুরুজ্জামান।

নিহত ২৬ জনের মধ্যে যে তিনজনের লাশ সনাক্ত করা যায়নি। তারা হলেন- আলিফউজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন।