চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

স্টিফেন হকিং: ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয়

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৯ ১০:২১:৩৬ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৯ ১৭:২১:১৪

ফজলুর রহমান

‘‘নক্ষত্রের দিকে তাকানোর কথাটা মনে রাখুন, আপনার পায়ের দিকে নয়। যা দেখেন তার অর্থ খোঁজার চেষ্টা করুন, জানার চেষ্টা করুন মহাবিশ্বের অস্তিত্বের রহস্য। কৌতূহলী হোন। জীবন যতই কঠিন মনে হোক না কেন, আপনি করতে পারেন এমন কাজ সব সময়ই পাবেন। সে কাজ থেকে আপনি অবশ্যই সাফল্য পেতে পারেন। আপনি যে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন-এটাই বড় কথা।’’-এই উদ্দীপনামূলক কালজয়ী উক্তিগুলো স্টিফেন হকিংয়ের। যিনি ১৪ মার্চ ২০১৮, ৭৬ বছর বয়সে কেমব্রিজে মারা যান।

স্টিফেন হকিংয়ের জন্ম ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে। হকিং ছিলেন ব্রিটিশ থিওরেটিক্যাল ফিজিসিস্ট, কসমোলজিস্ট এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল কসমোলজির রিসার্চ পরিচালক। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের সঙ্গে কোয়ান্টাম মেকানিকসের মিশ্রণে ব্যাখ্যাযোগ্য কসমোলজির থিওরি তিনিই প্রথম প্রকাশ করেন। ‘ব্ল্যাক হোল থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়’ বলে তিনিই তত্ত্ব প্রকাশ করেন। মহাবিশ্ব সম্পর্কিত হকিংয়ের প্রথম বই ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম : ফ্রম দ্য বিগ ব্যাং টু ব্ল্যাক হোলস’ প্রকাশ করেন ১৯৮৮ সালে। তিনি আরো লেখেন, ‘ব্ল্যাক হোলস অ্যান্ড বেবি ইউনিভার্সেস অ্যান্ড আদার এসেস’, ‘দি ইউনিভার্স ইন এ নাটশেল’, ‘অন দ্য শোলডার্স অব জায়ান্টস’ ইত্যাদি। রজার পেনরোজের সঙ্গে যৌথভাবে লেখেন ‘দ্য নেচার অব স্পেস অ্যান্ড টাইম’।

স্টিফেন হকিং যখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতশাস্ত্রের লুকেসিয়ান অধ্যাপক নিযুক্ত হন, তখন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞানী কার্ল সাগান বলেছিলেন, তিনি নিউটন ও পল ডিরাকের যোগ্য উত্তরসূরি। স্টিফেন অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, রয়েল সোসাইটির কোপলে মেডেল, রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির গোল্ড মেডেল, ১৯৮২ সালে সিবিই (CBE) এবং ১৯৮৯ সালে কম্পেনিয়ন অব অনার (CH); তা ছাড়া ২০০৯ সালে তিনি ইউএস প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পুরস্কার পান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাপ্লায়েড ম্যাথামেটিকস এবং থিওরেটিক্যাল ফিজিকসে গবেষণা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে কেমব্র্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, Large Scale Structure of Space Time নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করে, যার লেখক ছিলেন জর্জ এলিস ও স্টিফেন হকিং। এই বইটি সহজবোধ্য না হওয়ার কারণে এবং ১৯৮২ সালে হার্ভার্ডে লোয়েব বক্তৃতাদানের পর স্টিফেন সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি স্থান ও কাল বিষয়ে সাধারণের জন্য একটি বই লিখবেন। তাঁকে একজন বললেন যে বইটিতে একটি সমীকরণ ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে পাঠকের সংখ্যা অর্ধেক কমে যাওয়া। তাই স্টিফেন স্থির করেন একমাত্র E=Mc2 ছাড়া আর কোনো সমীকরণ তাঁর প্রকাশিতব্য গ্রন্থ ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’-এ ব্যবহার করবেন না। ১৯৮৭ সালে ব্যান্টাম প্রেস এই গ্রন্থটি প্রকাশ করে। এই গ্রন্থটি প্রায় এক কোটি কপি বিক্রি হয় এবং স্টিফেনকে এনে দেয় জগজ্জোড়া খ্যাতি। ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকা সে সময় এই বইটি সম্পর্কে লিখেছিল, ‘শিশুর সারল্য ও অনুসন্ধিৎসার সঙ্গে এ বইয়ে যুুক্ত হয়েছে অসীম প্রতিভাশালী ক্ষুরধার বুদ্ধি। আমরা অনায়াসে বিচরণ করতে পারি হকিংয়ের মহাবিশ্বে, আর সেই সঙ্গে প্রশংসা করতে পারি তাঁর মানসিক ক্ষমতার।’

বহুকাল থেকেই বিভিন্ন মৌলিক বলকে একটি তত্ত্বের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মহাবিশ্বে চার ধরনের বল আছে-অভিকর্ষ, তড়িৎ চৌম্বক, সবল পারমাণবিক ও দুর্বল পারমাণবিক বল। আইনস্টাইন এই বলগুলোকে এক জায়গায় মেলানোর চেষ্টা করে সফল হননি। আবদুস সালাম, ভাইনবার্গ ও গ্লাসো ইলেকট্রোউইক এবং ইলেকট্রো নিউক্লিয়ার তত্ত্বে চৌম্বক বল ও দুই ধরনের পারমাণবিক বলকে এক জায়গায় জুড়েছেন। হকিংও চেয়েছিলেন এক মহামিলন তত্ত্ব। হকিং ও পেনরোজ আপেক্ষিকতাবাদ ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের মিলন ঘটিয়ে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে ‘সব কিছুর তত্ত্ব’ (Theory of everything)-এর দিকে প্রথম পদক্ষেপ ফেলতে সাহায্য করেন। এক বিশ্বসভায় স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, There are some grounds for continuous optimism that we may see a complete theory within the lifetime of some of those present here. কিন্তু স্টিফেনের সে আশা তাঁর জীবদ্দশায় পূরণ হলো না।

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান জগতের এই প্রবাদপুরুষ স্টিফেন উইলিয়াম হকিং ছিলেন বিজ্ঞানজগতের অনন্যপ্রতিভা। এই প্রতিভা প্রমাণ করেছে যে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে অন্য কোনো শক্তিই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। এএলএস (Amyotrophic Lateral Sclerosis) বা মোটর নিউরনের মতো জটিল রোগ নিয়েও অর্ধ শতাব্দী ধরে স্টিফেন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ও কসমোলজির জগতে অবদান রেখে গেছেন। বিশ্বের অন্যতম দুর্বোধ্য এবং দুর্লভ ব্যাধি মোটর নিউরন ডিজিজ যা Lou GehrigÕs disease নামেও পরিচিত। মূলত, MND বা Motor neuron disease (মোটর নিউরন ডিজিজ) বা মোটর স্নায়ুর রোগ হল একটি নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বা স্নায়ুবিক রোগ।

চিকিৎসকের ভাষায় মোটর নিউরন হলো দেহের আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর একক যা মাংসপেশীর ঐচ্ছিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন: হাঁটা-চলা, কথাবলা, খাদ্য গলঃধকরণ এবং দেহের সাধারণ নড়াচড়াসহ শরীরের অন্যান্য গতিবিধির ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা ধ্বংস করে। এ রোগে মস্তিষ্কের এবং স্পাইনালকর্ডের স্নায়ু আক্রান্ত হয় এবং ধীরে ধীরে স্নায়ুতে তথ্য আদান প্রদান কমে যায়। এর সম্মুখীন ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতা এমন কি মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করতে পারেন। প্রকৃতিগত ভাবে মোটর নিউরন ডিজিজ্ সাধারণত প্রোগ্রেসিভ বা ক্রম বিকাশমান প্রকৃতির যাতে ক্রমশ: রোগের তীব্রতা বেড়ে আক্রান্ত দেহ জড়-বিবশ হয়ে এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রোগ নির্ণয়ের নানা পরীক্ষায় ও পরবর্তী সময়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে স্টিফেন হকিংয়ের মোটর নিউরন রোগটি ধরা পড়লে চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, তিনি আর মাত্র ২ বছর বাঁচবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এ পদার্থবিজ্ঞানী ৭৬ বছর অবধি বেঁচে ছিলেন।

২১ বছর বয়সে অর্থাৎ ক্যামব্রিজে পি,এইচ,ডি তে কর্মরত থাকার ১ম বছরে লক্ষ্য করেন তিনি ধীরে ধীরে খুব এলোমেলো হয়ে পড়ছেন, তিনি যেন তাঁর হাত-পা গুলোকে ঠিক ভারসাম্যে রাখতে পারছেন না। তিনি হাঁটতে হাঁটতে মাঝেমাঝে হোচট খেয়ে পড়তেন। এমন কি লিখতে সমস্যা হতো, জুতার ফিতা বাঁধতে সমস্যা হতো। কিন্তু তিনি এগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতেন। তারপর এক ছুটিতে বাড়িতে এলে তার মা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলেন স্টিফেন হকিং এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এই বিখ্যাত মানুষটি যেমন সৃষ্টিকর্মে ব্যাতিক্রমধর্মী, তেমনই তাঁর রোগটিও ব্যাতিক্রমধর্মী। চিকিৎসকেরা তাঁর এ রোগকে নির্মূল করতে পারেননি। তারপরও তিনি তাঁর গবেষনা থেকে পিছ পা হননি।

১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি কোনোমতে হাঁটতে পারলেও, উঠতে বসতে পারলেও পরবর্তীতে তিনি হুইলচেয়ারে বসে চলাফেরা করেন, এবং এভাবেই তার গবেষনা এখনো চালিয়ে যান। ১৯৮৫ সালে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন তাঁর শ্বাসনালীতে একটা অপারেশন হয়। তাঁকে এক পর্যায়ে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে চিকিৎসক তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী তাতে রাজি হননি। অপারেশনের পর হকিং কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন ক্যালির্ফোনিয়ার এক কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ তার এ দুরবস্থার কথা শুনে একটি যন্ত্র পাঠিয়ে দেন,এই যন্ত্রটির নাম ইকলাইজার,এটি মাথা নাড়াচারাও চোখের ইশারাতে কাজ করে। শেষ বয়সে তিনি ইকলাইজারের মাধ্যমে মিনিটে ১৫টি শব্দ ব্যবহার করে কথা বলেন।

পদার্থবিদ শন ক্যারলের বক্তব্য থেকে জানা যায়, স্রেফ হুইলচেয়ারের সমস্যার কারণে তিনি কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রে একবার তাঁর কনফারেন্সে আসা উপলক্ষে বিরাট স্বেচ্ছাসেবী বহরের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন শন ক্যারল। হুইলচেয়ার, তাঁর জন্য বিশেষায়িত গাড়ি, নার্স, গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট ইত্যাকার বিরাট লটবহর নিয়ে তিনি নেমেই যেতে চাইলেন তাঁর প্রিয় একটি ক্যাফেতে, যার চা অথবা কফি তাঁর অসম্ভব প্রিয়। অর্থাৎ ডিজ-অ্যাবিলিটি তাঁকে কখনোই জীবনের স্বাদ গ্রহণ থেকে বিরত রাখেনি। তিনি পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে দৌঁড়েছেন, কিন্তু মজা করে বলতেন, আমি কোথাও পড়ে যাইনি, অর্থাৎ পৃথিবীর কোনো ধার নেই, পৃথিবী গোল!

২০০৭ সালে তিনি প্রথম চলৎশক্তি হীন ব্যক্তি হিসেবে একটি বিশেষ বিমানে ওজনশূন্যতার অভিজ্ঞতা নেন। মানুষকে মহাকাশ ভ্রমণে উৎসাহ দেয়ার জন্যই তিনি এটি করেছেন বলে জানান। এই রোগের কারনে যেহেতু তিনি অধিকাংশ লোকের মত কথা বলতে সক্ষমতা হারান, এইজন্য হকিং কিছু গ্যাজেট ব্যবহার করেন মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে। আমরা প্রায়ই বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিওতে দেখতে পাই তিনি কয়েককটি মেশিনের সাথে যুক্ত একটি হুইলচেয়ারে বসে আছেন। আমৃত্যু তিনি এসব বয়ে গেছেন। একই সাথে জীবনকেও উপভোগ করেছেন। মানবাজিতকেও দিয়েছেন মূল্যবান গবেষণা উপহার।

বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞানের শীর্ষ ব্যক্তি অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলামের কেমব্রিজ ছাত্রজীবনে তাঁর সমসাময়িক ও আজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন স্টিফেন হকিং। হকিং বিশ্বকে কর্তব্য ও করণীয়সমূহ সম্পর্কে আভাস দিয়ে গেছেন। পুরো মানবজাতির জন্য তাঁর অঙ্কের সমীকরণগুলো তিনি রেখে গেছেন আর দিয়ে গেছেন অনবদ্য গ্রন্থগুলো। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তার অসুস্থতা তার জন্য কিছু উপকারও এনে দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘অসুস্থ হবার আগে তিনি জীবন নিয়ে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।’ আর এই উপহার-উপভোগ সবই সম্ভব হয়েছে দুটি কারণে। এক. স্টিফেন হকিংয়ের অদম্য ইচ্ছা শক্তি। দুই. এই বিস্ময়কর বিজ্ঞান-প্রতিভা থেকে মূল্যবান ধন আহরণে সকলের সার্বিক সহযোগিতামূলক নিরন্তর প্রচেষ্টা। আসলে, এ দুঃসময়ে রোগীদের ফেলনা না ভেবে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সবার। আর তখনই স্টিফেন হকিং-এর মত মোটর নিউরন ডিজিজকেও সাথী করে বিশ্বজয় করা সম্ভব হবে।

লেখক: সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়), ভাইস চ্যান্সেলর অফিস, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। ই-মেইল: fazlu7kania@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।