চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

‘হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য’

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৬ ১০:২৯:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৬ ১৭:১২:০৪

হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের বহু প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। কালের পরির্বতনে বিলুপ্ত প্রায় এখন হাজারো বন্যপ্রাণী। একটা সময় রাঙামাটির বিস্তৃত বনাঞ্চলে বন্য প্রাণীর দ্বিতীয় বৃহত্তর আধার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ছোট, বড় হরেক রকম বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ ছিল পাহাড়ি এ অঞ্চলে। এখন সেটা শুধুই কল্পনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত জুম চাষ ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনই বন্যপ্রাণীদের অভয়াশ্রম ধ্বংসের মূল কারণ। তাই পাহাড়ে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। একই সাথে হ্রাস পাচ্ছে পাহাড়ের উষ্ণমন্ডলীয় মিশ্র চিরহরিৎ বনাঞ্চলও।

বন বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলে প্রায় ৭৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১০০ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী ও ২৫ প্রজাতির সরীসৃপের অবস্থান ছিল। কিন্ত বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল ক্রমশঃ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এ সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে-মায়া হরিণ, সাম্বার, বানর, গয়াল, হাতি, বন্য শুকর, বন ছাগল, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এছাড়া রাঙামাটিতে গত ৫ বছরে মারা গেছে ৬টি হাতি। শিকারসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় পড়ে এসব হাতির মৃত্যু হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের হিসাব মতে, ২০১২ সালের ৮ জুন কর্ণফুলী রেঞ্জে প্রসবকালীন একটি মা হাতি মারা যায়। ২০১৪ সালে ২২ অক্টোবর একই উপজেলার শুকনাছড়ি বিটে চোরাশিকারির গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মারা যায় একটি হাতি। ২০১৫ সালে ২ জুলাই রাঙামাটি সদর রেঞ্জের জীবতলী পিকনিক স্পট এলাকায় বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মারা যায় ২ হাতি।

এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ২০১৬ সালে ১০ এপ্রিল কর্ণফুলী রেঞ্জে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে ফেলে মারা হয়েছে একটি মা হাতি- যা বন বিভাগের হিসাবে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বন বিভাগ জানায়, জেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে রয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাবলাখালী অভয়ারণ্য এবং কাপ্তাই উপজেলার কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। এ দুই সংরক্ষিত এলাকায় রয়েছে বন্যহাতির আবাসস্থল। কিন্তু কত পরিমাণ হাতি রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই বন বিভাগের কাছে।

এ ব্যাপরে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনবল সঙ্ককটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় কাজ করছে স্থানীয় বন বিভাগ। এরই মধ্যে জনসচেতনতায় সভা, কর্মশালা, বিভিন্নস্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন, পশুখাদ্য উপযোগী ৫০ হেক্টর বাগান সৃজন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে করণীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাঙামাটি জেলার পাহাড়গুলো উষ্ণমন্ডলীয় মিশ্র চিরহরিৎ বন হিসাবে পরিচিত লাভ করলেও অবাধে বৃক্ষ নিধন ও বনজ সম্পদ পাচারের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে।

এ অঞ্চলের বনে বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গর্জন, সিভিক, চন্দুল চম্পা, নারিকেলি, তেলসুর, তালি, পিটরজ, শিমুল, তুন, ভাদি, জারুল, কদম, পিটালী, শিমুল, বান্দরহোলা, আমড়া, আমলকি, চিকরাশিসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির নাম না জানা হাজার হাজার বৃক্ষ। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এসব বনজ সম্পদ। অনিয়ন্ত্রিত বন ব্যবস্থাপনা এবং অবাধে বৃক্ষ নিধন ও বন উজারের ফলে এখানকার বন ও বনজ সম্পদের অপরিমিত ক্ষতি হচ্ছে। আর সে ক্ষতির মাসুল দিতে হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে। যেমন সম্প্রতি বর্ষা মৌসুমে ঘটছে পাহাড়ধসের মত ভয়াবহ ঘটনা। হারাতে হয়েছে ১২০জন মানুষের প্রাণ। তবে এ ক্ষতি কাঠিয়ে উঠতে নতুন বনায়ন সৃষ্টি, ইকোপার্ক স্থাপন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গেম রির্জাভ স্থাপন ও সুষ্ঠু বন ব্যবস্থাপনার মতো পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পার্বত্যবাসী।