চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

চবি’র শাটলে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে কারা?

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৫ ২১:০৮:১৩ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৬ ১১:৩২:৪৩

সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

নগর-গ্রাম-সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে, ছুটছে শাটল হুইসেল বাজিয়ে। কোলাহল আড্ডা আর গানে, ছুটছে শাটল ক্যাম্পাস পানে। উপমাটি নিজুমপুরীর বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের।

তবে প্রাণের শাটলের বগি সংকট দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আসা-যাওয়া করে। তীব্র গরমের মধ্যে স্টুডেন্টরা প্রচন্ড কষ্ট করে ২২ কিলোমটিারের পথ পাড়ি দেয়।

তাই এবার কিছু শিক্ষার্থী পোস্টারিং করে সম্প্রতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে শাটল ট্রেনে। “অর্ধেক পথ বসে, অর্ধে পথ দাড়িয়ে যাই… সম্প্রীতি বাড়াই… আমরা চবিয়ান ভাই ভাই… এই পরিবর্তনটা চাই” এ ধরণের পোস্টার কয়েকদিন ধরে শোভা পাচ্ছে প্রতিটি বগিতে।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের কথা এখন শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উৎসাহ প্রকাশ করছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছে, এ ধরণের নিয়ম চালু হলে অন্তত কিছুটা সময় বসে যাওয়া যাবে। কারণ বেশিরভাগ স্টুডেন্ট প্রতিদিন সিট না পেয়ে দাড়িয়ে আসা যাওয়া করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানেন শাটল ট্রেনে সিট কী। কতটা কষ্টে একটি সিট পাওয়া যায়। অনেকেই রসিকতা করে বলে, চান্স পাওয়ার চেয়ে সিট পাওয়া কঠিন।

তবুও যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সুখ দুঃখের সাথী এই শাটল ট্রেন। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে সিট ধরার এক প্রতিযোগিতার নাম এই শাটল। প্রেমিক যুগলের কাছে এক ঘণ্টা যেন চরম চাওয়ার, পরম পাওয়া। মান অভিমান আর রোমাঞ্চিত প্রাণের স্পন্দন হওয়ার এক অনন্য নাম চবির শাটল ট্রেন।

জানা যায়, ১৯৮১ সাল থেকে শাটল ট্রেন চালু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একমাত্র শাটল ট্রেনের ক্যাম্পাস। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই শাটল ট্রেন। দিনে ১৮ বার চলাচল করা শাটল মুখর হয়ে থাকে নিজুমপুরীর এ বিদ্যাপীঠ। এ শাটলেই রচিত হয় প্রেম কাহিনী। কত প্রেমের নীরব সাক্ষী এ প্রাণের শাটল।