চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

কৃত্রিম ফুলে সর্বনাশ!

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৫ ১১:৫০:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৫ ১৮:০৬:৫৩

শহীদুল ইসলাম বাবর
সিটিজি টাইম্‌স ডটকম

এক যুগ ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফি বছর ফুল চাষের পরিধি বাড়লেও বাজারে চীন তাইওয়ানসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানিকৃত কৃত্রিম ফুলের দাপটের কাছে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ছেন সাতকানিয়ার শত শত ফুলচাষি। মানে টেকসই এবং দামে কম হওয়ায় ফুল ব্যবসায়ীরাও তাজা ফুলের পরিবর্তে ঝুঁকছেন কাপড়ের তৈরি কৃত্রিম ফুলের দিকে। এতে করে কদর কমে গেছে সাতকানিয়ায় উৎপাধিত নানা জাতের ফুলের। উৎপাধন খরচ তুলতে না পারায় চাষীরা ফুল চাষে দারুন ভাবে নিরূৎসাহিত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফুল চাষের পরিধি। একাধিক চাষীর সাথে আলাপ ও সরেজমিন পরির্দশন কালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারী তরফে প্লাস্টিক ফুল বের হওয়ার সাতকানিয়ায় উৎপাধিত ফুলের কদর কমে গেছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ। তিনি বলেন, বাজারে এখন প্লাস্টিক ফুল বের হয়েছে। আসল ফুলে পচন ধরে যায়, আর প্লাস্টিক ফুলে পচন ধরেনা। ফলে লোকজন এখন নানা অনুষ্ঠানাদিতে আসল ফুলের পরিবর্তে প্লাস্টিক ফুলের ব্যবহার শুরু করেছে। তাই কমেছে আসল ফুলের কদর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়,সাতকানিয়ায় বেশ কয়েক জাতের ফুল চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, রজনী গন্ধা, ভুট্টাফুল, গাঁদা, বেলি, কামিনী, গাডিওলাস, সূর্যমুখী, ডায়মন্ড, গরম ফেনিয়া, জারবরা, রতপুসটি, টুনটুনি, জিপসি, স্টারকলি ও চন্দ্রমলিকাসহ আরও একাধিক জাতের ফুল চাষ হয়ে থাকে।

এর সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকায় সামান্য পরিমাণ গোলাপ ছাড়া বাকি সব ফুলই চাষ হয় উপজেলার মুল ভূখন্ড থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন খাগরিয়া ইউনিয়নে। সরেজমিন পরির্দশনকালে দেখা যায়, চর খাগরিয়ার পশ্চিম পাড়া এলাকার মাঠ জুড়ে বিরাজ করছে ফুল ক্ষেত আর ফুল ক্ষেত। আর এ ফুল ক্ষেতে পরিচর্যা, কিংবা ফুল তুলতে ব্যস্থ বেশ কয়েকজন কৃষক। তাদেরই একজন হচ্ছে মোহাম্মদ শফি। ফুল চাষ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ শফি বলেন, চর খাগরিয়ার অধিকাংশ কৃষক ফুল চাষ করেই লাভবান হয়েছে। কারন খাগরিয়ায় উৎপাধিত ফুলের চাহিদা চট্টগ্রাম জুড়ে। প্রতিদিন গাড়িতে করে এখানকার উৎপাধিত ফুল নগরীর চেরাগী পাহাড় এলাকায় বিভিন্ন ফুলের দোকানে নিয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৫ লাখ টাকার ফুল খাগরিয়া থেকে নগরীতে যেত জানিয়ে এ কৃষক হতাশ কণ্ঠে বলেন, এখন আর সেই যৌবনকাল নেই। এখন আর ট্রাকে করে নগরীতে ফুল যায়না। বাসের সিটে করে অল্প পরিমাণ ফুল যায় মাত্র। কাপড় ও প্লাস্টিকের তৈরী ফুলের আমদানি বন্ধ না হলে ফুল বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খাগরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের খাগরিয়া এক সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য দেশব্যাপী পরিচিত হলেও অন্তত ১ যগ ধরে ফুলের রাজ্য খাগরিয়া বলে লোকজন অবহিত করত। কিন্তু এখন সেই ফুলও হারিয়ে যাচ্ছে। খাগরিয়ার চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, খাগরিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আলুর জন্য বিখ্যাত হলেও অন্তত ১০/১২ বছর থেকে ফুলের জন্যও বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বাজারে কৃত্রিম ফুল ছড়িয়ে পড়ায় আসল ফুলের চাহিদা কমে গেছে। এখন কৃষকরা লাভ তো দুরের কথা উৎপাধন খরচও তুলতে পারতেছেনা।

ফুল চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ বলেন, সাতকানিয়ায় সব মিলিয়ে ১৫ হেক্টর জমিতে ফুল চালষ হয়েছে। এর অধিকাংশই খাগরিয়াতে। তবে সাতকানিয়া পৌর সভা এলাকায় সামান্য পরিমাণ গোলাপ চাষ হয়েছে মাত্র। তিনি বলেন বাজারে ফুলের চাহিদা কমেনি। কৃত্রিম ফুলের কারনে আসল ফুলের মূল্য কমে গেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দিন দিন ফুল চাষীর সংখ্যা কমে যাবে বলেই মনে করেন এ কৃষিবীদ।