চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

মিরসরাইয়ে বিদ্যুত বিভ্রাট জনজীবন অতিষ্ঠ

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৪ ১২:৩২:০৯ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৪ ১২:৩২:০৯

এম মাঈন উদ্দিন 
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইতে সম্প্রতি লোড শেডিং এর ধরন অসহনীয় মাত্রা ধারন করেছে। বিদ্যুত মিরসরাই অঞ্চলের অপরিহার্য একটি অংশ হলেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যাচ্ছেনা বিদ্যুত। প্রতিদিনের অনিয়মিত লোডশেডিং ও লুকোচুরি খেলায় এখানকার জনজীবন রীতিমত অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। নিয়ম করে প্রতিদিন সন্ধায় ২-৩ ঘন্টা কোনদিন কিংবা তারও বেশি সময় থাকছেনা বিদ্যুত। স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা একটি দিনও সন্ধারাতে বিদ্যুতের অভাবে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছে না। গরমে নেমে এসেছে তীব্র আশান্তি। দুপুরের তীব্র গরমে থাকছে না নিয়মিত বিদ্যুত। রাতের বেলায় বিদ্যুত না থাকায় রাস্তাঘাটে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি ও ছিনতাই এর ঘটনা। চলাফেরায় নেই বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা। অসুস্থ ব্যক্তিরা বিদ্যুতের অভাবে ভোগ করছে অমানবিক কষ্ট।

দেখা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের রয়েছে তীব্র অভিযোগ। তাদের জীবনের চলার পথে বিদ্যুতের অনিয়মিত লোডশেডিংএর যে নেতিবাচক প্রভাব তা তারা তুলে ধরেন। তার দ্রুত সমাধান চান মিরসরাইয়ের গ্রাহকরা।

উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়া তালুক গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সোলেমান জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে আমরা নানাবিধ সমস্যায় পড়ছি। সন্ধায় ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। আরেক গ্রাহক আবুল কালাম জানান, আমার ছোটখাট একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা বিদ্যুৎ নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে বেচাকেনা কমে যায়। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।

আবুতোরাব বাজারের কম্পিউটার দোকানের স্বত্ত্বাধিকারী রিয়াদ মোর্শেদ বলেন আমাদের ব্যবসাটাই বিদ্যুতকেন্দ্রিক। বিদ্যুত ছাড়া আমরা এক মুহুর্তও কল্পনা করতে পারি না। বর্তমানে মিরসরাইতে ইকোনোমিক জোনের কাজ চলছে। সেখানকার কিছু ঠিকাদারের কম্পোজ এর কাজ আমরা করি, তাছাড়া, বেজা, বেপজা, সওজ এর অনেকগুলো নিয়মিত কাজ আমাদের আবুতোরাবের কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুতের অনিয়মিত লোডশেডিং এর কারনে আমরা সময়মত তা গ্রাহকদের ডেলিবারি দিতে সক্ষম হচ্ছিনা। এতে করে আমাদের ব্যবসার বিপুল ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

ভূঁইয়া ভবনের মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রয়োজনের সময় বিদ্যুত না থাকায় ভবনের জন্য পানি তুলতে অসুবিদায় পড়তে হয়। অনেক সময় ভাড়াটে চাকুরীজীবিদের গোসল ছাড়াই যেতে হয় অফিসে। অভিযোগ করেও তেমন কোন ফল পাইনা আমরা। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় জনগন।

জনগনের অভিযোগের ভিত্তিতে মিরসরাই পল্লি বিদ্যুত সমিতি ৩ এর আবুতোরাব অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানায় সমস্যার সঠিক কারন বলতে পারবে না। সেক্ষেত্রে মিরসরাই অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পারামর্শ দেয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও দায়িত্বরতদের কর্তব্যে অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই পল্লি বিদ্যুত সমিতি ৩ এর পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, সাময়িক অসুবিদার জন্য আমরা দুঃখিত। দ্রুত সমস্যা প্রতিকারের আস্বাস দেন তিনি। দায়িত্বরতরা কেন সঠিক তথ্য দিতে পারেনি সেবিষয়ে জবাবদিহিতা করা হবে।