চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

নেপাল ট্র্যাজেডি: বৃহস্পতিবার সারাদেশে শোক দিবস ঘোষণা

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৪ ১২:২৮:৩৫ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৪ ১২:২৮:৩৫

নেপালের কাঠমান্ডুতে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সারাদেশে একদিনের শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া শুক্রবার মসজিদ মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া এবং প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে ওই সভা থেকে।

সোমবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালী এবং ১ জন চীনা নাগরিক। চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের মধ্যে আছেন: শহীদ হোসেন, কবির হোসেন, শাহরীন আহমেদ, মো. শামীম, ড. ইজানা এবং নাম না জানা একজন।নেপাল-বৈঠক-নেপালের আইন-শোক দিবস

উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি ৪ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনায় প্রথমেই মৃত্যু হয় ওই ফ্লাইটের সহকারি পাইলট এবং ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট প্রিথুলা রশিদের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদও মারা যান।

উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ইস্যুতে বুধবার বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের সঙ্গে বৈঠকে নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল রাজেন্দ্র ছেত্রি বলেছেন, হতাহতদের দেশে পাঠানোর ব্যাপারে নেপালের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহায়তা করবে দেশটির সরকার।নেপাল-বৈঠক-নেপালের আইন-শোক দিবস

অন্যদিকে বিমানমন্ত্রী বলেছেন, এক্ষেত্রে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মরদেহগুলো সনাক্ত করা। কিন্তু সেজন্য স্বজনদের মরদেহ দেখতে দেয়াটা প্রয়োজন। সেখানে নিহত সবার স্বজন নেপালে আসতে পারেননি। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব সবগুলো মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়ার ইচ্ছার কথা জেনারেল ছেত্রিকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় ব্যবস্থাপনার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আট নম্বর গেটে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে অবতরণের সময় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আহত এবং নিহতদের লাশ দেশে ফেরার সাথে সাথে দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।