চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৪ ১০:০৫:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৪ ১২:৩০:৩৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (১৪ মার্চ) সকালে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানিতে দুদকের আইনজীবীরা সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৪ বিচারপতির নিয়মিত বেঞ্চ ৪ দিনের এ স্থগিতাদেশ দেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের পৃথক দুটি আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান চেম্বার আদালত বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে পৃথক শুনানি শেষে রবিবার পর্যন্ত বেগম জিয়ার জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।

এদিন শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানি শুরু করেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের কপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুই বিচারপতি জামিন আদেশে স্বাক্ষর করেন। সিএমএম কোর্ট জামিন আদেশ গ্রহণের পর এর কপি কারাগারে পাঠানো হবে।

গতকাল মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি পৃথক আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুমিল্লায় গাড়ি পুরানোর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেয়া আছে। সেই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) জেলে আছেন ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলায় জামিন না নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে ৬ আসামিকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই কারাবন্দি আছেন।

উল্লেখ্য, এতিমদের সহায়তায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুদানের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা-তারেকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। এর পর থেকে গত প্রায় ৯ বছর ধরে চলমান আছে এ মামলার বিচারকাজ।

খালেদা-তারেক ছাড়াও এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অপর চার আসামি হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক রয়েছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।