চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নোয়াখালীর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের ২০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ১২:০৮:৫৫ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৩ ১২:০৮:৫৫

মানবতাবিরোধী অপরাধে নোয়াখালীর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি মো. শাহীনূর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুপ্রাপ্তরা হলেন আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, জয়নাল আবদিন এবং আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর। এছাড়া আব্দুল কুদ্দুসকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৩১ তম এ মামলায় নোয়াখালীর সুধারমের আমির আলীসহ চার জনের বিরুদ্ধে যে কোন দিন রায় (সিএভি) ঘোষণার জন্য রাখা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আসামি চারজন হলেন আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, জয়নাল আবদিন, আব্দুল কুদ্দুস এবং আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর।

গত ১০ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার দুজনকে ফাঁসির আদেশ ও ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে ৩০তম মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়।

এদিকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আনা জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ও মাওলানা আবদুস সুবহান এবং জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের আপিল মামলা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে এটিএম আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজাকার কমান্ডার ও শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ মো. কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলায় শান্তি কমিটির নেতা মাওলানা সুবহানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ী সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত এই তিন আসামিই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতে সাতটি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছিল। আরো বেশক’টি মামলা আপিলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানায়,পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে।