চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে বিএনপির জনসভার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১২ ২০:১৪:৪৯ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৩ ১১:১৯:৪৯

১৫ মার্চ লালদীঘির মাঠে বিএনপির জনসভা করার জন্য ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা। দীর্ঘ বছর পর লালদীঘির মাঠে বিএনপির এ জনসভা সফল করতে ব্যাপক-উৎসাহ উদ্দীপনা ছাড়াও সক্রিয় হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। জনসভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির চট্টগ্রামে এ আয়োজেন দলের সভানেত্রী উপস্থিত না থাকলেও সব নেতা-কর্মীর অন্তরে স্থান রয়েছে তার। এতে জনসভায় খালেদা জিয়ার জন্য আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ চেয়ারটি খালেদা জিয়ার জন্য ‘শূন্য’ থাকবে।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় নাসিমন ভবনে বিএনপির কার্যালয়ে কেন্দ্রীয়, জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে জনসভা সফল করতে জরুরি মতবিনিময় হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ জনসভা সফল করতে নগর, উত্তর, দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথ এবং পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে সভা, সমাবেশ ও মতবিনিময়ও করছেন নেতা-কর্মীদের সাথে। পুুলিশের অনুমতি না পেলেও ইতিমধ্যে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ জনসভার আয়োজন করছে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়া যাবে বলে জানান কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেও দ্রুত মুক্তির দাবি এবং আগামি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতারা এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। তাছাড়া কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতার মুক্তির দাবিতেও দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে লালদীঘি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি মিলেছে। রবিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিএনপি নেতাদের মতে, জনসভা আয়োজনে সহযোগিতা করবে পুলিশ প্রশাসন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জনসভার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে মানুষের ঢল নামবে। আশা করছি পুলিশ প্রশাসনও আমাদের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে বন্দী করে তার প্রতি অমানবিক আচরণ করছে। সরকারি ষড়যন্ত্রে বেগম জিয়ার জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে তাকে মানসিকভাবে দুর্বলের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু শত ষড়যন্ত্রেও বেগম জিয়ার মনোবল দুর্বল করতে পারেনি। তিনি নেতা-কর্মীদের সরকারের উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের সাথে প্রস্তুতি সভা করে জনসভায় সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।

জনসভা সফল ও সুন্দর করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহসভাপতি এমএ আজিজ, উত্তর জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি চাকসু ভিপি মো. নাজিম উদ্দিনসহ নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা।