চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উঠতি বয়সে অপরাধ: কিশোরদের আরো কিছু ‘কাজ’ দিন

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১১ ১৫:২৯:২০ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১১ ১৫:৩১:০০

ফজলুর রহমান

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- ‘তের চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই’। চারপাশে চোখ বুলালেই মিলছে এমন ‘বালাই’। এ বয়সের ছেলেমেয়ের সামনে থাকে অদম্য আশা-নেশা। থাকে জীবন,জগৎ, সংসার সম্পর্কে অতিকৌতূহল। অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশের কারণে কিংবা আশাভঙ্গের বেদনায় হতাশা সঙ্গী হয়। কারো কারো জীবন নৈরাশ্যের অন্ধকারে পতিত হয়। এই সোনার কিশোরকালে পড়তে থাকে অপরাধের কালো দাগ। আর এই কিশোর অপরাধ দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ ধরনেরই উঠতি বয়সী অপরাধ এখন বেশি দেখা যাচ্ছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রামে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোররা ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে- বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত এমন খবরে নানা উদ্বেগ এখন। প্রকাশিত খবর মতে, মাদক সেবন ও ব্যবসা, হিরোইজম, মেয়েদের উত্যক্ত করা, নিজেকে জাহির করার জন্য হাঙ্গমায় জড়ানো, মার্কেট-বিপণি দোকানপাটে চাঁদাবাজি ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারসহ খুনাখুনিতেও জড়িয়ে পড়ছে এই উঠতি সন্ত্রাসীরা। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কিংবা নেশার টাকা জোগাড় করতে বাবা, মায়ের অজান্তে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

শিশু-কিশোর বলতে আমরা নবজাতক থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে মনে করি। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদেও ১৮ বছরের নিচে সব মানবসন্তানকে ‘শিশু’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিশু ও কৈশোরকাল প্রত্যেকের জীবনের স্বর্ণালি সময়। মহাকবি মিল্টন বলেছেন,’The Childhood shows the man, as morning shows the day’। অনেক বিশেষজ্ঞ একমত হয়েছেন এভাবে-‘A Child is ordinarily, a Per-ten human beings from birth to age 12 who has not fully developed both physically and mentally.’এ সময়ে শিশু-কিশোরদের শরীর ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে থাকে। কাজেই শিশু বিকাশের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক বছরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তখন তাদের মনে যদি সুশিক্ষা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বীজ বপন করা যায় তাহলে তারা ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম। শিশুরা শৈশবকালেই তাদের স্বভাব, আচার-আচরণের ভিতটাকে তৈরি করে ফেলে। তাই এ সময়টাতে বিশেষভাবে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন বিশেষজ্ঞরা।

উঠতি বয়সের অপরাধ বা কিশোর অপরাধ কি? অিপরাধ বিজ্ঞানী বিসলার বলেছেন- কিশোর অপরাধ হলো প্রচলিত সামাজিক নিয়মকানুনের উপর অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরদের অবৈধ হস্তক্ষেপ। আবার অপরাধ বিজ্ঞানী বার্ট বলেছেন- কোনো শিশুকে তখনই অপরাধী মনে করতে হবে যখন তার অসামাজিক কাজ বা অপরাধ প্রবণতার জন্য আইনগত ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে। মূলত বিশেষ ধরণের অস্বাভাবিক ও সমাজ বিরোধী কাজ যা কিশোর-কিশোরীরা সংঘটিত করে তাকে কিশোর অপরাধ বলে। তাহলে আমাদের বুঝতে হবে, চট্টগ্রামে এই অপরাধ বিস্তারের মূলে দায়ী কোথাও না কোথাও রয়ে যাওয়া ‘গ্যাপ’। আর এই নিয়ে আমাদের আরো কিছু ‘কাজ’ করার আছে।

আমরা শুরু করতে পারি একেবারে ঘর থেকে। আগে ঘর, তবে তো পর। কথায় আছে না-Charity begins at home যড়সব। পরিবার হচ্ছে সুশিক্ষা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের প্রথম পাঠশালা। এখান থেকে আমরা অন্তত: দুটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। যে দুটি বিষয় সকলের জন্য সমান। সেটা রাজা হোক ফকির হোক। একটি হলো-সময়। অন্যটি সুশিক্ষা।

সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদ সকলের জন্য সমান। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবানের জন্য যেমন ২৪ ঘন্টায় একদিন, ক্ষমতাহীন দরিদ্রের জন্যও তেমন সমান সময়। সে সময়টা আমরা উঠতি বয়সীদের জন্য সঠিকভাবে চালিত করতে পারি। কারণ লেখাপড়ার জন্য ১০০ বছর আগে যেমন সময় দিতে হয়েছিল, এখনো তাই। তাই সময় ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। পুরুষ ও নারীদের মধ্যে এই বয়সে স্বাভাবিক হরমোন প্রবাহ বেড়ে যায়। শিশু কিশোরদের দৈহিক ও মানসিক চিন্তার পরিবর্তনের নদীতে আসে নব জোয়ার। সে জোয়ারেরর সময়টাকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করা জরুরি। সব সময় পরিবারের সদস্যদের শিশু-কিশোরদের প্রতি গভীর নজর রাখতে হবে। তাদের জন্য যেভাবে হোক সময় দিতে হবে। আর এই সময়ের তালে তালে নৈতিক, মানবিক শিক্ষা দিতে হবে এবং আনন্দ-বিনোদনের সুযোগসহ সুকুমারবৃত্তির চর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ২৪ ঘন্টার রুটিন যথা সম্ভব নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে শিশু-কিশোরদের ভালো অভ্যাসগুলোর প্রতি আগ্রহী ও অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এই তীব্র কৌতুহলের কালকে মুল্যবান মণি-মুক্তোয় সাজাতে হবে।

আরেকটি বিষয় বলা হলো শিক্ষা। এটি এমন এক বিষয় যে কেউ কারো থেকে কেড়ে নিতে পারে না। কেউ যদি একটু বেশি পড়ে, একটু বেশি শিক্ষা নেয়, তাহলে সে কম পড়া বিপুল বিত্তের লোক থেকেও এক দিক্ দিয়ে ধনী। এক সময় বলা হতো- শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। সময়ের সাথে স্লোগানও বদলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে-‘সুশিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’। কারণ প্রচলিত অর্থে শিক্ষা বলতে যা বুঝাচ্ছে সেখানে নানা ফাঁক রয়ে গেছে। এসব ফাঁক-ফাকরে গলে যাচ্ছে অনেক নৈতিক মূল্যবোধ। বলা হয় যে, বর্তমানে শিশু কিশোর যেন বিদ্যার একেক জাহাজে পরিণত হচ্ছে। যে জাহাজ পরিপূর্ণ হয় বই-কলম আর দিস্তা দিস্তা কাগজে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যার মাধ্যমে প্রকৃত ও আদর্শ মানুষ গড়া যায় না। সংস্কৃতিচর্চা, নৈতিকতা, সৃজন ও মননচর্চা পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দেশপ্রেম ও সদাচরণের শিক্ষা চলমান রাখতে হবে। স্কুলে লেখাপড়ার বাইরে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নানা প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা যেতে পারে।

আমাদের সন্তানদের কেবল ভালো রেজাল্টের প্রতিযোগিতায় নামিয়ে না দিয়ে সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দিয়ে মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ যদি অবারিত ও সুন্দর হয়, তাহলে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হবে। শিশুদের জন্য এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেখানে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই উদ্ভাবনী আচরণ ও খেলাধুলা করতে পারে। শিশু-কিশোরদের প্রতি তাদের অভিভাবক ও সমাজকে অত্যন্ত মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষক সমাজকে তাদের শিক্ষা প্রদান বিষয়টিকে আরো আনন্দময় করার চেষ্টা করতে হবে। শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার পাশাপাশি নানা সৃজনশীল জগতে ব্যস্ত রাখতে হবে। একটি উদাহরণ দেয়া যায়, যোগ্য শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে কাজ করছে অনলাইন প্লাটফারম ‘কিশোর বাতায়ন’। কিশোর বাতায়নের মাধ্যমে সারাদেশব্যাপী সম্প্রতি শেষ হয়েছে ‘আমার জেলা, আমার অহংকার’ প্রতিযোগিতা। নিজ জেলার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, স্থাপনা বা পণ্য দ্রব্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে গল্প, কবিতা, গান, শর্টফিল্ম, চিত্রাঙ্কন প্রভৃতি কাজে অংশ নিয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন তাদের মধ্যে দেশপ্রেম তৈরি হচ্ছে তেমনি নিজের প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরার এক বিরল সুযোগ পেয়েছে। এ ধরনের মেধার বিকাশ ও শিক্ষামূলক বিনোদনময় কাজগুলোর পরিসর আরো বাড়ানো দরকার। অনেক অভিভাবক পাশ্চাত্য সংস্কৃতিপ্রীতিকে আভিজাত্যের প্রতীক বলে মনে করেন এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে অনেকটা অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখেন। আবার অনেকে তাদের সন্তানকে জিপিএ-৫ পাওয়া বা আরো ভালো ফলাফল তৈরির মেশিনে পরিণত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন, সেখানে সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চার বিন্দুমাত্র সময় পাচ্ছেন না। অথচ শিশু বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিশিষ্টজনদের অভিমত হলো শিশু-কিশোরদের আদর্শ নাগরিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হলে সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে হবে। পুষ্টিকর খাবার যেমন শিশুর শারীরিক বিকাশে সহায়ক তেমনি দেশীয় সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভালো ফলাফলের জন্য পড়ালেখা, স্কুল, একের পর এক কোচিং, হোমওয়ার্ক ইত্যাদি সামাল দিতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে অনেকেই। পাঠ্যবহির্ভূত বই পড়া তো দূরের কথা তাদের নেই কোনো বিনোদন, খেলাধুলা, আনন্দ-উল্লাস। এভাবেই স্কুল, শিক্ষক ও অভিভাবক সবাই মিলে শিশু-কিশোরদের ভালো ফলাফলের যন্ত্রে পরিণত করছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অন্যান্য সুকুমারবৃত্তি চর্চার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন খুবই জরুরি। ভালো ফলাফল অর্জন করে মহাজ্ঞানী হওয়া এবং বিত্তবৈভবের পাহাড় গড়ে তোলা, সবই ব্যর্থ ও অর্থহীন হয়ে যাবে যদি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা না থাকে। শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। পারিবারিক শিক্ষার মধ্যেই শিশু-কিশোরদের মনোজগতে নৈতিকতার বীজ প্রোথিত হয়। প্রথমে পরিবার থেকেই শিশু-কিশোরদের জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মননশীলতা, নৈতিকতা ও দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার জন্য কাজ করে যেতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি, সুবক্তা এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সম্প্রতি পেশাজীবিদের একটি মিলন মেলায় দুটি জীবনমুখী ঘটনা তুলে ধরেছেন। অমায়িক ব্যবহারের জন্য সমাদৃত এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতার মুখে শোনা দুটি ঘটনাই এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর বয়ানে প্রথমটি এ রকম-‘ আমার এক পরিচিত হজ্জ্ব-ওমরাহ করবেন, তিনি জানতে চেয়েছিলেন, আচ্ছা-পিলারের ওখানে গিয়ে শয়তানকে পাথর মারতে হয় কেন? আমি বললাম-এটি প্রতীকী পাথর মারা, শয়তান হযরত ইবরাহিম (আ:)-কে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল বলে হযরত ইবরাহিম (আ:)- পাথর মেরে বিতাড়িত করেছিলেন, আমরাও এখন সেই বিভ্রান্তকারী শয়তানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষায় প্রতীকী হিসেবে পাথর মেরে যাচ্ছি। তখন আমার পরিচিত লোকটি বললেন- এটি যদি সত্যি হয়, তাহলে আমার তো উচিত নিজের উপর ৮/১০টি পাথর মারা, কারণ আমি তো প্রতিদিন ৮-১০ জনকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছি! আগে তো নিজে শোধরাতে হবে নাকি?’ দ্বিতীয় ঘটনাটিও খুব স্পর্শ করে যায় সকলের। তিনি বলেন, একটি ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মাঝারি পর্যায়ের এক কর্মকর্তার ছেলের খবর প্রায় মিডিয়ায় আসে। আমার ক্লায়েন্ট। একাধিকবার নেশা, মারামারি প্রভৃতিতে জড়িয়ে আটক হয় ছেলেটি। একদিন আমি ছেলের বাবাকে বরলাম, আর কত? ছেলেকে সামলান, এত টেনশনও করতে হবে, টাকাও যাবে না। ছেলের বাবা আমাকে বললেন- এই যে, আমি এত টাকা আয় করি, আমার এত ভোগ-বিলাস, রাত ১২টার আগে বাড়ি ফিরতে পারি না, সকালের আবার কাজে ফিরে যাই, ছেলের দিকে তাকানোর সময় আমার আছে? তাছাড়া, টাকা তো আছে ছেলের এসব দুষ্টামি না থাকলে টাকা খরচ করবো কোথায়?’

বর্তমান পুজিঁ নির্ভর সমাজে দ্রুত বড়লোক হওয়া, দ্রুত স্ট্যাটাস অর্জন, দ্রুত জাতে ওঠার আত্মঘাতী চেষ্টায় সচ্ছলতার পরিবর্তে প্রাচুর্য্য অর্জন করছে সমাজের অনেক লোক। কোন কোন পরিবারে দেখা যায়, উপচে পড়া সম্পদের বলি হচ্ছে তাদের সন্তানরাই। বর্তমানে সামাজিক স্নেহ ও শাসনের অনুপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। শিশু-কিশোরদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়া পিতা-মাতার পাশপাশি সামাজিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। অভিভাবক, এলাকার প্রবীন মানুষ সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে শিশু-কিশোরদের পরিচর্যায়। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সমাজের প্রতিটি শিশু-কিশোরের সৃজনশীলতা বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করা না গেলে, অসংখ্য নেতিবাচক খবর প্রতিদিন ভেসে আসবে। শিশু-কিশোরদের সমাজের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে নিয়ে আসতে হবে আসন্ন আরো ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে। এক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো অধিকমাত্রায় সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষ করে, মসজিদি-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডাগুলোতে, যেখানে বেশিরভাগ সময় বড়দের জন্য বয়ান ও নসিহত চলে, সেখানে শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ বক্তব্য ও পাঠ রাখতে পারলে ভালো।

বলা হয়ে থাকে, বর্তমান বিশ্বের অসংগঠিত সমাজ ব্যবস্থায় দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নর অন্যতম নেতিবাচক ফল হলো কিশোর অপরাধ। পরিবার কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তন, শহর ও বস্তির ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং সমাজজীবনে বিরাজমান নৈরাজ্য ও হতাশা কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নত। ভিন্ন সংস্কৃতির বাঁধ ভাঙা জোয়ারও এজন্য অনেকাংশে দায়ী। আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই এ রকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে। উঠতি বয়স তথা কৈশোরকাল মানুষের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের সময়। এ সময় সঞ্চার ঘটে আশা ও স্বপ্নের। মাুনষের মতো মানুষ হওয়ার বীজ বপনের কাল এটি। কিন্তু আমাদের সমস্যা সংকুল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে অনেক কিশোরের সুপ্ত প্রতিভা নষ্ট হয়। যার প্রভাব পড়ে সমাজ ব্যবস্থায়। তাই উঠতি বয়সীদের অপরাধের ক্ষেত্রগুলো আগে বিনষ্ট করতে হবে। উঠতি বয়সীদের দেহ-মনকে আরো কাজ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সূচনা করতে হবে নিজ নিজ পরিবার থেকেই। সময় গেলে সাধন হবে না।

লেখক: সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়), ভাইস চ্যান্সেলর অফিস, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।