চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

জৌলুসপূর্ণ খেলার মাঠের মৃত্যুর শেষ পেরাগ আউটার স্টেডিয়ামে

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১১ ১৬:৪০:২২ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১১ ২০:২০:৫৪

সুইমিংপুল, ট্রাক টার্মিনাল, দোকানপাট ও নার্সারীর কারণে জীর্ণশীর্ণ

আখতার হোসাইন

যে মাঠ উপহার দিয়েছিল জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, তামিম ইকবাল ও নাফিস ইকবালের মত অসংখ্য খেলোয়াড়। সে মাঠ এখন পরিত্যক্ত জীর্ণশীর্ণ। সেই জৌলুসপূর্ণ খেলাধুলার অন্যতম মাঠের শেষ পেরাগ চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে।

এই মাঠের অর্ধেকাংশ দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে সুইমিংপুল। যদিও এই সুইমিং পুল নিয়ে হাজারো তর্ক বিতর্ক শেষে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। এখন মাঠের যে অংশ টুকু আছে তার সিংহভাগ অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাক টার্মিনাল। স্টেডিয়ামের বিরাট অংশ জুড়ে দিন রাত শত শত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও মিনি ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়।

গাড়ির ধোয়া-মোছা, খুটিনাটি মেরামত সবই চলে স্টেডিয়ামের মধ্যেই। চর্তুপাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে দোকান পাট ও নার্সারী। সব মিলিয়ে এ মাঠটি বর্তমানে খেলার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য নূর আহমদ সড়কের ফুটপাত ভেঙে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে যত গুরুত্বপূর্ণ খেলা অথবা অন্য কোন ইভেন্ট থাকুক না কেনো, ট্রাকের আনাগোনা বন্ধ হয় না। অনেক সময় খেলোয়াড়দের শরীর ঘেঁষে বিপজ্জনকভাবে ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। অবৈধ ট্রাক টার্মিনালের কারণে এই স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে আসছে।

এ বিষয়ে পুলিশ অথবা জেলা ক্রীড়া সংস্থা কারোর মাথা ব্যথা নেই। চট্টগ্রামে দুটি স্টেডিয়াম থাকলেও ক্রীড়াঙ্গনে আউটার স্টেডিয়ামের গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। এই মাঠটিতে এক সময় স্টার সামার ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ অনেক বড় খেলার আসর বসেছে। আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, নোবেল, শহীদ থেকে শুরু করে হালের তামিম ইকবালসহ অনেক জাতীয় ক্রিকেটারের ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছে এই আউটার স্টেডিয়ামে। এখনো অনেক ছোট-বড় ক্লাবের খুদে ক্রিকেটার তৈরির কারখানা এই আউটার স্টেডিয়াম। মাঠের এখানে সেখানে রয়েছে প্র্যাকটিসের জন্য অনেকগুলো নেট। ক্রিকেটের পাশাপাশি এই মাঠে সারাদিন ফুটবল খেলায় মত্ত থাকে শিশু কিশোররা। কিন্তু তাদের এই নির্মল আনন্দে বাদ সেধেছে এই অবৈধ স্থাপনা।

অন্যদিকে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের চারপাশে দোকানপাট করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। একসময় এখানে দুই একটি কাবাবের দোকান থাকলেও বাকি সব ছিল খেলাধুলার সামগ্রীর দোকান। এখন পুরো এলাকা জুড়ে হোটেল রেস্তোরাঁর রমরমা ব্যবসা। সিডিএর অনুমতির তোয়াক্কা না করে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টে খেতে আসা লোকজনের কারণে সন্ধ্যার পর স্টেডিয়ামের পাশের রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, পুলিশ এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করে না।

চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠকরা অভিযোগ করেন, অবাধে দোকানপাট নির্মাণ ও বাণিজ্যিকীকরণের কারণে স্টেডিয়াম এলাকায় খেলাধুলাসহ নির্মল চিত্তবিনোদনের পরিবেশ হারিয়ে যেতে বসেছে। একদিকে আউটার স্টেডিয়ামের ট্রাক টার্মিনালসহ অবৈধ স্থাপনা এবং অন্যদিকে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম এলাকায় অবাধে দোকানপাটের কারণে কিশোর তরুণদের ক্রীড়া চর্চার সুযোগ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।