চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

খালেদাকে ‘গণতন্ত্রের মা’ উপাধি দিলেন ফখরুল

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১০ ২০:৫৪:৪০ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১০ ২০:৫৪:৪০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খলেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ উপাধি দিয়েছে বিএনপি। দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ থেকে এই উপাধি দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার বিকালে খুলনায় এই জনসভা হয়। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেন।

পূর্বঘোষিত নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। জনসভাকে ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠোকাতে জনসভাস্থলের পাশেই জল কামানসহ পুলিশের সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এক মাস ধরে নানা কর্মসূচি পালনের পর খুলনার এই জনসভাকে খালেদা জিয়া ও দেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রামের সূচনা বলে আখ্যা দেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খুলনার জনসভায় খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের মা উপাধি দেয়া হলো। গৃহবধূ থেকে দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় আপসহীনভাবে তিনি আন্দোলন করে যাচ্ছেন।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীকে জেলে পাঠিয়েছেন। তাকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার সাহস করেন না।’ কারাগারের খালেদা জিয়াকে জরাজীর্ণ কক্ষে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, তাকে ন্যূনতম আইনি অধিকার দেয়া হয়নি।

কারাগারে খালেদা জিয়া মনোবল হারাননি দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি আগের চেয়ে আরও তেজস্বী হয়েছেন।’

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে বাংলাদেশের মানুষ এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন আন্দোলন শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নয়, সাথে সাথে গণতন্ত্র, দেশ রক্ষা ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হবোই।’

বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে ধৈর্যহারা না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শামিল হওয়ারও আহ্বান জানান দলের মহাসচিব।

সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে আছে এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য যতরকম অপরাধ আছে তার সবই করছে বলেও অভিযোগ করা হয় সমাবেশে।

দশম সংসদ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। আওয়ামী লীগ একটি পাতানো নির্বাচন করেছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন এমপি হওয়াই এই পাতানো নির্বাচনের প্রমাণ রয়েছে।’

পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা কেন অহেতুক জনগণের প্রতিপক্ষ হচ্ছেন। জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। জনগণকে সম্মান করতে শিখুন, তা না হলে দায়ভার আপনাদেরও নিতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘সরকার শুধু উন্নয়নের দোহাই দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। খুলনার জনসভায় আসতে গিয়ে সেই উন্নয়নের চিত্র দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। যশোর থেকে খুলনায় আসতে গেলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। জনগণের স্বার্থে কোনো অপশক্তির সাথে কখনও আপস করেননি খালেদা জিয়া।’

‘স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে নয় বছর, এক এগারোর অবৈধ মঈন উদ্দিন ও ফখরুদ্দীনের আমলে দুই বছর এবং বর্তমান আওয়ামী বাকশালের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে নয় বছর। খালেদা জিয়া তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তাকে জেলে রেখে বিএপিকে দমানো যাবে না।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান, কুষ্টিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী হাসান রুমী, বরিশালের সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান সারওয়ার প্রমুখ এতে বক্তব্য দেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজররুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে জনসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, মেহেরপুর জেলা বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণ, খুলনা বিএনপির সভাপতি সভাপতি শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, বাগেরহাট বিএনপিরর সভাপতি এম এ সালাম প্রমুখও এতে বক্তব্য রাখেন।