চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

বীরাঙ্গনা প্রিয়ভাষিণীর প্রস্থান

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৬ ১৫:০১:০২ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০৬ ২১:০৫:০৫

প্রখ্যাত ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আর নেই। মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১বছর।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি, ইউরিন ও থাইরয়েডের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

গত ২৩ নভেম্বর অসুস্থ হলে হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের অধীনে ভর্তি হন প্রিয়ভাষিণী।

১০ ডিসেম্বর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত তার বাম পায়ের গোড়ালির সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কিছুটা বেশি অসুস্থবোধ করলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ১৩ ডিসেম্বর তার চিকিৎসায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে গত ১৮ ডিসেম্বর তাকে পুনরায় কেবিনে নিয়ে আসা হয়। ২০ ডিসেম্বর তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।

আজ সকালে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রিয়ভাষিণীকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং মায়ের নাম রওশন হাসিনা। বাবা-মায়ের ১১ সন্তানের মধ্যে প্রিয়ভাষিণী সবার বড়।

১৯৬৩ সালে প্রথম বিয়ে করেন প্রিয়ভাষিণী। ১৯৭২ সালে করেন দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী আহসান উল্লাহ আহমেদ ছিলেন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। তাঁর ছয় সন্তান, তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। মাঝে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি ইউএনডিপি, ইউএনআইসিইএফ, এফএও, কানাডিয়ান দূতাবাস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন।

দেশের প্রখ্যাত ভাস্কর প্রিয়ভাষিণীকে ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। এর আগে ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান। ২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়।

ভাস্কর্য প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।