চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৪ ১৮:৩৭:৪০ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০৪ ২২:১৬:০৯

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সুমনের উপর হামলার ঘটনার সোমবার অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। এদিকে, ছাত্রলীগ সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জিসান নামে বিদ্রোহী গ্রুপের এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ অবরোধ করে রাখলেও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার সময় অবরোধকারীদের রেললাইন থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শেখ রাসেল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের উপর এ ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে নাঙ্গলকোট থানা ছাত্রলীগ সোমবার অর্ধদিবস হরতাল পালন করবে। সকাল থেকে ছাত্রলীগের সর্বস্তরের সকল নেতাকর্মী রেললাইনসহ পুরো নাঙ্গলকোটে অবস্থান নেবে। ট্রেন, বাসসহ যে কোনো ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে। দোকানপাট খুলবে না।’

তিনি বলেন, ‘দুপুরের পর প্রত্যেক ইউনিয়নে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত রাঘব বোয়ালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এদিকে, আবদুর রাজ্জাক সুমনের উপর হামলার ঘটনায় জিসান নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে বলে অভিযোগ করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

এর আগে রোববার আবদুর রাজ্জাক সুমনের উপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। নাঙ্গলকোটে রেললাইনের উপর গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেয়। এর ফলে প্রায় ৩ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নাঙ্গলকোট সোনালী ব্যাংকের সামনে মোল্লার হোটেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় পেছন থেকে উপর্যুপুরি কোপানো হয় সুমনকে।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুল মালেকের ভাতিজা মিসুর নেতৃত্ব প্রায় ১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী এ নারকীয় হামলা চালায়। হামলার প্রতিবাদে যুবলীগ সভাপতি আবদুল মালেক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন কালুর বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা।

হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক সুমনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার মুখ, ঘাড়সহ পুরো শরীরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে প্রায় ১৫টি কোপ দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, হামলাকারীদের হাতে চাইনিজ কুড়াল ও পিস্তল দেখা যায়। হামলায় অংশ নেয় ১২ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। হামলাকারীদের মুখ কাপড় দিয়ে বাধা ছিল। এর মধ্যে তিনজনকে চিহ্নিত করা গেছে।

হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিল উপজেলা যুবলীগের আপন ভাতিজা মিশু। চিহ্নিত হওয়া বাকি দুজন হলো- জিসান ও মহিন। তারা খাবার টেবিলের পিছন দিক থেকে এসে উপর্যৃপুরি কোপাতে থাকে। খাবার টেবিল থেকে নিচে পড়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে, ছাত্রলীগ সভাপতির উপর হামলার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নাঙ্গলকোটে জড়ো হয়। তারা এ ঘটনায় পৌর মেয়র আবদুল মালেক ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে দায়ী করে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা যুবলীগ সভাপতি মালেক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালুর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। নেতা-কর্মীরা তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।