চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

জাফর ইকবালের ওপর হামলায় প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৩ ২৩:০৫:২০ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০৪ ১১:২১:৫৩

বিশিষ্ট লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী দেশ বরেণ্য এই শিক্ষকের চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে শনিবার (৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাবি ক্যাম্পাসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, এদিন ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ফেস্টিভ্যাল চলছিল ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল; সেখানেই বিকেল ৫টার দিকে তার ওপর হামলা হয়। হামলাকারী পেছন দিক থেকে জাফর ইকবালের মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় বিকেলেই তাকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানো হয়।

তবে জাফর ইকবালের অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তাকে ঢাকায় পাঠাতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

এদিকে হামলার ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ছুরিকাঘাতকারী এক যুবককে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় কিংবা হামলার কারণ জানা যায়নি।

প্রিয় শিক্ষক জাফর ইকবালকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর হাসপাতাল ঘিরে অবস্থান নেয় শাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‌‌মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক যুবক ছুরি মারে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে। ঘটনার কারণ জানা যায়নি।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। র‌্যাগিংয়ের দায়ে ৫ ছাত্র বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘এদের শাস্তির পরিমাণ কম হয়েছে, তাদের পুলিশে দেয়া উচিত।’ ধারণা করা হচ্ছে- জাফর ইকবালের এমন মন্তব্যের জেরেই প্রতিক্রিয়াশীল কোনও গোষ্ঠী তার ওপর এ হামলা চালিয়েছে।