চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরিয়ে দিতে সীমান্তে মিয়ানমারের সেনারা

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৩ ১১:০১:৫৫ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০৩ ১৩:০৬:১৬

বান্দরবানের তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরিয়ে দিয়ে কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করতে মরিয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তমব্রু’র ওপর থেকে নজর সরাতে রোহিঙ্গাদের নানা ধরণের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি শক্তি সঞ্চার করছে তারা।

রাতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ ছাড়াও কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তেও প্রবেশের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ স্থানীয় রোহিঙ্গাদের।

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২০৮ কিলোমিটার সীমান্ত থাকলেও শুধুমাত্র তমব্রু সীমান্ত পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আছে মিয়ানমারের শত শত সেনা। ভারী অস্ত্র নিয়ে দিন-রাত অবস্থানের পাশাপাশি তারা জোরদার করেছে টহল। মূলত শূন্য রেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতেই তমব্রু সীমান্তে প্রতিনিয়ত তারা শক্তি সঞ্চার করছে। শুক্রবার বিকেলে অন্তত ছয়টি ট্রাকে করে দুই শতাধিক সেনা সীমান্তের এ পয়েন্টে নতুন করে অবস্থান নেয়।

এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘তমব্রু সীমান্ত থেকে আমাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেল দিচ্ছে মিয়ানমার।’

অপর একজন বলেন, ‘মিয়ানমারের উদ্দেশ্য, আমাদের তমব্রু সীমান্ত থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ করা।’

আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইনে প্রবেশ করতে পারে না। এক্ষেত্রে তমব্রু শূন্য রেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মিয়ানমারের প্রকৃত চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করে তারা। আর এ পথকেও বন্ধ করতে মরিয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যারা দেখাশুনা করতে আসবে তারা যেনো এরকম একটা প্রচার পেতে না পারে এটা তাদের একটা মুখ্য উদ্দেশ্য হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এই যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সেটাকে ভণ্ডুল করার জন্য তাদের চেষ্টা করছে বলেই আমি মনে করি।’

সীমান্তের মাত্র কয়েক গজের মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভারী অস্ত্র নিয়ে এমন অবস্থানে ভীত শূন্য রেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা।

সেখানে অবস্থান করা এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের উপর সীমাহীন নির্যাতন হচ্ছে। দিনে ১০ থেকে ১৫ বার তারা গুলি ছোঁড়ে।’

তবে মিয়ানমার বাহিনীর উসকানির মুখে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান।

তিনি বলেন, ‘সীমান্তের কাছাকাছি যদি নিরাপত্তা বাহিনী বৃদ্ধি করা হয় এবং যদি গুলি করা হয় এতে আমাদের দেশের জনগণ যারা সীমান্তের কাছে বসবাস করে তারা আতঙ্কিত হতে পারে এবং এটা দু’টি বর্ডার গার্ড বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। তারা বলেছে বিষয়টা তারা দেখবে।’

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হলে বিজিবির বাধার মুখে নো ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়েছিলো এসব রোহিঙ্গা। এরমধ্য থেকে কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে চলে গেলেও বর্তমানে ৬ হাজার ২২ জন এখানে অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে যতবারই মিয়ানমার মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে ততবারই সে পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়ার জন্য নানা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এবারও যখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হচ্ছিলো ঠিক তখনই সীমান্তের খুব কাছ ঘেঁসে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে পুরো সীমান্তকে অস্থির করে তুলেছে তারা।