চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

সীমান্তে অহেতুক সমরাস্ত্র প্রদর্শন করেছে মিয়ানমার, সাতকানিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০১ ১৬:৫৩:৪২ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০১ ২০:১০:২৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি অত্যন্ত শক্তিশালী। বিজিবি দেশকে ভালবাসে। যেকোন বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘুমধুমের-তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মহড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অহেতুক সমরাস্ত্র প্রদর্শন করেছে মিয়ানমার। আপনারা দেখেছেন মিয়ানমার মুখে যা বলে তা বাস্তবায়ন করে কম। তারপরও বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ’ বায়তুল ইজ্জতে ৯১তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, এনডিসি, পিএসসি, প্রধান অতিথির সংঙ্গে অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক ও বিজিবির উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বোমাং সার্কেল রাজা প্রকৌশলী উচ প্রু চৌধুরীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন সৈনিকদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত থেকে এ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি আরো শ্রদ্ধা জানান মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহীদদেরকে। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ এবং মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য এ বাহিনীর ০৮ জন বীর উত্তম, ৩২ জন বীর বিক্রম এবং ৭৭ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিতদেরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি বিজিবিকে একটি দক্ষ, চৌকষ এবং প্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি বলিষ্ঠ ও দক্ষ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন কঠোর প্রশিক্ষণ, সৎচরিত্র, মানসিক দৃঢ়তা, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলাবোধ এবং সঠিক নেতৃত্ব।

তিনি সৈনিক জীবনে আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ধর্মীয় বিশ্বাস, মানবিক এবং নৈতিক মূল্যবোধ এর অনুশীলনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সকলকে সর্বদা উর্দ্ধতন কর্মকর্তার আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনুগত্যশীল থাকার এবং নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব বজায় রাখার উপদেশ দেন ।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিকের মূল পরিচিতি। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। নবীন সৈনিকদের দৃপ্ত পদক্ষেপ আজকের এই সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারই প্রতিফলন হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। আজকের এ মহতী অনুষ্ঠানে নবীন সৈনিকদেরকে নতুন জীবনে পদার্পনের শুভ লগ্নে প্রধান অতিথি সকলকে নতুন জীবনে স্বাগত জানিয়েছেন।