চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

রবির অ্যাকাউন্ট জব্দের সিদ্ধান্ত আপিলে বহাল

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০১ ১০:৪১:২০ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০১ ১০:৪১:২০

ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এনবিআরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে রবি’র পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মূল্য সংযোজন কর ফাঁকির অভিযোগে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দে এনবিআরের সিন্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দেন।

এরও আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মূল্য সংযোজন কর ফাঁকির অভিযোগে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি’র সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তিন দিনের জন্য জব্দ রাখতে সব ব্যাংককে নোটিশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অপারেটরটির বিরুদ্ধে প্রায় ৯২৪ কোটি ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে এ পাওনা আদায়ে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-মূল্য সংযোজন কর শাখা।

সূত্রজানায়, এলটিইউ থেকে বকেয়া আদায়ে ৬ ফেব্রুয়ারি রবিকে পৃথক পাঁচটি চিঠি পাঠানো হয়। এলটিইউ-মূসকের কমিশনার মো. মতিউর রহমান সই করা চিঠিগুলো রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। পাঁচটি চিঠির মধ্যে একটি চিঠিতে কোম্পানিটির কাছে ৭১১ কোটি ৮২ লাখ ১১ হাজার ৯১৭ টাকা দাবি করেছে এলটিইউ।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরীক্ষা করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ মূসক অডিটের পাঁচ সদস্যের কমিটি কর্তৃক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এসএপি সফটওয়্যার খাতে অপরিশোধিত মূসক বাবদ ৫৫৩ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৫২৮ টাকা এবং অপরিশোধিত উৎসে মূসক বাবদ ১৫৮ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৮ টাকা কম পরিশোধের প্রমাণ পায়। অর্থাৎ অনাদায়ী হিসেবে মোট ৭১১ কোটি ৮২ লাখ ১১ হাজার ৯১৭ টাকা আদায়ের জন্য মূসক আইন, ১৯৯১ এর ৫৫ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী দাবিনামা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অপর চিঠিতে ইন্টারকানেকশন চার্জ হিসেবে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৫ হাজার ৮০২ টাকা দাবিনামা চূড়ান্ত করে চিঠি দিয়েছে এলটিইউ। এর আগে এ দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূসক আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫৫ এর উপধারা (১) অনুযায়ী প্রাথমিক দাবিনামা জারি করেছিল সংস্থাটি। কোনো জবাব না পাওয়ায় এবারে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করেছে।

আইন ও বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যাটারি, ক্যাবল, প্রিন্টেড বোর্ড, রাইডার ও সুইচ ইত্যাদি আমদানিতে রেয়াত গ্রহণ করে রবি আজিয়াটা ১১৬ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৬২ টাকা ফাঁকি দিয়েছে বলে আর একটি চিঠিতে দাবি করেছে মূসক কর্তৃপক্ষ, যা মূসক আইন, ১৯৯১ এর ৯ (১)(ঙ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বকেয়া ওই অর্থ আদায়ে প্রাথমিক দাবিনামা জারি করার পর রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দাবিনামা চূড়ান্ত করে নোটিশ দেয় বৃহৎ করদাতা ইউনিট।

অপর চিঠিতে টেলিফোন, টেলিপ্রিন্টার, টেলেক্স, ফ্যাক্স বা ইন্টারনেট সংস্থা ও সিমকার্ড সরবরাহকারীসহ বিবিধ সেবার ওপর প্রযোজ্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬ হাজার ৩৪৮ টাকা ভ্যাটবাবদ চূড়ান্ত দাবিনামা ইস্যু করা হয়।

সর্বশেষ চিঠিতে রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের একীভূতকরণের ক্ষেত্রে মার্জ ফি বাবদ ১০০ কোটি টাকা এবং এয়ারটেলের অনুকূলে তরঙ্গ মূল্য সমন্বয়বাবদ ৫০৭ কোটি টাকাসহ মোট ৬০৭ কোটির ওপর প্রযোজ্য উৎসে মূসক হিসেবে ৯১ কোটি ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে, যা মূসক আইন, ১৯৯১ এর ৬(৩), ৬(৪ক), ৬ (৪খ), ৬(৪ঙ) ধারা ও বিধিমালা অনুযায়ী আদায়যোগ্য।

অনাদায়ী ওই টাকার দাবিনামা মূসক আইনের ৫৫ এর (৩) উপধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত করা হয়। আর দাবিকৃত রাজস্ব অনতিবিলম্বে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান জন্য অনুরোধ করা হয় প্রতিটি চিঠিতে।