চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

মিরসরাইয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন মটরশুটি আবাদ

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৮ ০৯:৩৫:৩৫ || আপডেট: ২০১৮-০২-১৮ ১৪:২৮:৫৩

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মটরশুটি আবাদ বেড়েছে দ্বিগুন। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন মটরশুটি চাষ হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে মটরশুটি চাষে ঝুঁকছে কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১০ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ হয়েছে। গত বছর যার ছিল ৫ হেক্টর। এর চাষাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাবাদী কৃষক এবং কৃষি বিভাগও। উপজেলার সবচেয়ে বেশি মটরশুটি চাষ হয়েছে ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়ন চলতি বছর ৭ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ জানায়, বেলে-দো-আঁশ মাটিতে মটরশুটি বেশি ভালো ফলন হয়। মটরশুটি রবি মৌসুমের ফসল। জমিতে মাত্র একবার চাষ দিয়েই অক্টোবর-নভেম্বর মাসে মটরশুটির বীজ বপন করা হয়। এরপর আর ব্যয় তেমন নেই বললেই চলে। বিঘা প্রতি ১২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। জমিতে শুধু টিএসপি ও পটাশ সারের প্রয়োজন হয়। সেচের দরকার হয় না বললেই চলে। তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুটি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলে এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় কমপক্ষে ২৫ মণ মটরশুটি। আর বাজার দর প্রতি মণ ২৫০০ টাকা হিসেবে মোট আয় আসে ৬২ হাজার টাকা। আমন ও আউশ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে মটর শুটি চাষ করা হয়। ফলে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে মটরশুটি।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর শেখের তালুক গ্রামের কৃষক মো. সানা উল্লাহ জানান, তিনি আমন ধান ঘরে তোলার পর ওই জমিতে মটরশুটি চাষ করেছেন। তিনি ১ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ করেছেন। বর্তমানে ফুল এসেছে। এখনো ফল আসেনি। এছাড়া মটরশুটি চাষে উপজেলা কৃষি অফিস যথেষ্ট সহায়তা করছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফয়জুল জানান, তিনি ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তার আওতাধীন মধ্যম ওয়াহেদপুর ব্লকে ৫ হেক্টর জমিতে মটরশুটি চাষ হয়েছে। ধীরে ধীরে কৃষক মটরশুটি চাষে ঝুঁকছে কৃষক।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে না হলেও পরিবারের সারা বছরের ডালের চাহিদা মেটাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা মটরশুটি চাষ করছে। সবজি কিংবা আমিষের বিকল্প হিসেবে মটরশুটি তুলনাহীন। আবার উন্নত উপাদেয় খাবারে আজকাল মটরশুটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন মটরশুটি চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের এখন থেকে মটরসুটি চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করছি শিগগিরই ব্যাপক হারে চাষ হবে এই উৎপাদনমুখী কৃষি পণ্যের।