চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

বিকল সিসি ক্যামেরায় চলছে চমেক হাসপাতাল

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৭ ১১:০১:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০২-১৮ ০৯:২৯:৫৩

সিটিজি প্রতিবেদক

কথা কাটাকাটির জেরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর দুই সপ্তাহ পর মেডিক্যাল কলেজের গেইট থেকে চুরি হয় একটি মোটরসাইকেল। এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ওষুধ-জিনিসপত্র চুরির ঘটনাতো আছেই। তবুও টনক নড়ছে না চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

দীর্ঘদিন অচল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সিসি ক্যামেরাগুলো। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। যার কারণে উদ্বেগ বেড়েছে হাসপাতালে আসা রোগী-দর্শনার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করাটা অনেক সহজ। কিন্তু ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন বিকল। তাই কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, জরুরি বিভাগে দলবেঁধে এসে পুলিশের উপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। অথচ কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এতে আসামি ধরতে অতিরিক্ত বেগ পেতে হচ্ছে।’

‘আমাদের ফাঁড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশ সদস্য কম। অন্যদিকে হাসপাতাল এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরির ঘটনা। এতে করে কোনদিকে নজর দিব অনেকসময় টের পায়না। সিসি ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে অপরাধী ধরতে সুযোগ হয়।’

এরআগে কয়েকবছর আগে সীমিত সংখ্যক ক্যামেরা লাগানো হয় হাসপাতালে। রোগীদের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০১৩ সালে প্রায় সবকটি ওয়ার্ডে লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। এরজন্য অ্যাক্ট ওয়ে নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুই বছর পর দায়িত্ব শেষে প্রতিষ্ঠানটি চলে যায়। এরমধ্যে কেটে যায় তিন বছর। কিন্তু নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যার কারণে দীর্ঘদিন পড়ে আছে ক্যামেরাগুলো। বর্তমানে অনেক ক্যামেরা নষ্ট হয়ে আছে। আর যেগুলো সচল আছে, সেগুলো চলছে জোড়াতালিতে।

এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনালের মো. জালাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তাঁরা আমাদের কাছে ফুটেজ চেয়েছে। কিন্তু আমরা দিতে পারিনি।’

‘এত বড় হাসপাতালে নিরাপত্তাররক্ষী খুব অল্প। অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা অবশ্যই দরকার। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তা পারছিনা।’

পরিচালক বলেন, ‘এরমধ্যে সিসি ক্যামেরার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এটির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। কয়েক মাসের মধ্যে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন সিসি ক্যামেরা বসাতে পারবো।’