চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

‘মিয়ানমারের হাতে ১৮শ রোহিঙ্গা পরিবারের তালিকা’

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৬ ২৩:১৫:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০২-১৬ ২৩:১৫:৪৩

নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১১ লাখ মিয়ানমারের অধিবাসী রোহিঙ্গার মধ্যে ১৮শ’ পরিবারের তালিকা দেশটির প্রতিনিধি দলের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ। তারা এ তালিকা যাচাই-বাছাই করে কবে থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করবে, তা জানিয়ে দেবে।

শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে’ রোহিঙ্গা পরিবারের এই তালিকা তুলে দেওয়া হয়। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের প্রধান সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ের নেতৃত্বে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের হাতে তালিকা তুলে দেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের জানিয়েছি, মিয়ানমার থেকে প্রায় ১১ লাখ অধিবাসী রোহিঙ্গা নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কফি আনানের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের মিয়ানমারে থাকা, খাওয়া, নিরাপত্তাসহ সব ধরনের নিশ্চয়তা বিধান করে সবাইকেই ফিরিয়ে নিতে হবে। প্রতিনিধি দল বলেছে, তারা এভাবে রোহিঙ্গাদের নেবে না, বরং প্রত্যেকটি পরিবার অনুযায়ী তালিকা করে দেশে ফিরিয়ে নেবে। তারা আরো বলেছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা পরিবারের যে তালিকা দিচ্ছে সেই তালিকা ধরে যাচাই-বাছাই করবে। একইসঙ্গে তাদের থাকা, খাওয়াসহ তিন ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে মিয়ানমারে ফেরত নেবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তারাও পজেটিভ মুড নিয়ে এসেছিলেন। আমরা ১১ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গার লিস্ট করেছি, সেখানে তারা (মিয়ানমার) বলেছিলেন ফ্যামিলি ওয়াইজ লিস্ট দিতে। আমরা আজকে প্রায় ১৮শ পরিবারের প্রায় ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা করে তাদের দিয়েছি। তারা এটি কর্ডিয়ালি রিসিভ করেছেন। তারা (মিয়ানমার) এটা (তালিকা) যাচাই-বাছাই করে আমাদের জানাবেন। এই তালিকা ধরে কবে রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত নেবেন সেটাও তারা পরবর্তীকালে জানিয়ে দেবেন।’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আরো বৈঠক হবে এবং বৈঠক অব্যাহত রাখার জন্য তাদের বলা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শূন্য রেখায় ওই দেশের সীমান্তে ৬ থেকে ৭ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তারা বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং বলেছে, তারা দ্রুত এসব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। কীভাবে কখন ফিরিয়ে নেবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার বৈঠকে বসবে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলায় অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের এই বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। দুই দেশ আলোচনা করে ২০ ফেব্রুয়ারি ঠিক করবে কখন কোন পদ্ধতিতে সীমান্তে অবস্থানকারী এসব রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে।’

রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট কি না, জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের সঙ্গে আমাদের ধারাবাহিক আলোচনা হচ্ছে। আমরা সেখানে গেছি। তারাও এখানে এসেছেন। আমরা বলেছি, কফি আনানের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা না করে ফেরত নেওয়া হলে পরে তারা আবারো এদেশে ফিরে আসবেন। বিষয়টি তারা ভালোভাবে নিয়েছেন। তারা বলেছেন, থাকা, খাওয়াসহ তিন স্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে মিয়ানমার। এগুলো ঠিক করেই তারা রোহিঙ্গাদের সেদেশে পর্যায়ক্রমে ফেরত নেবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা যেভাবে আলোচনা ও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা মিয়ানমারের ওপর আস্থা রাখতে পারি।’

শুক্রবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে আসেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। গার্ড অব অনার দিয়ে প্রতিনিধি দলটিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও মাদকের বিস্তার রোধে মাদক আস্তানা নির্মূলসহ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বৈঠক চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বৈঠকে বাংলাদেশের ১৮ সদস্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মিয়ানমারের ১৫ সদস্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ে। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলে সেদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, পুলিশ প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ফরিদ উদ্দিন আহম্মদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, আইজিপি ড. মো. জাভেদ পাটোয়ারিসহ মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।