চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাঁস ঠেকাতে নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৫ ১৭:৫১:৪২ || আপডেট: ২০১৮-০২-১৫ ২৩:১৭:০২

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে অটোমেটেড প্রশ্নপত্র পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একটি কন্ট্রোল সিস্টেম থেকে এ প্রশ্ন পাঠানো হবে কেন্দ্রগুলোতে। প্রতিটি পরীক্ষার হলে থাকবে প্রশস্ত ডিজিটাল স্ক্রিন। সেখানে প্রশ্নপত্র ভেসে উঠবে। তা দেখে উত্তরপত্রে উত্তর লিখবে পরিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সভাকক্ষে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমরা একটা বিষয়ে ভাবছি। কিন্তু নেটের অপর্যাপ্ততার কারণে তা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একটি সিস্টেম ডেভেলপ করা হবে। উক্ত সিস্টেমে সকল প্রশ্ন প্রণয়ণকারী প্রশ্ন জমা দেবেন। এক্সপার্টদের কাছ থেকে প্রশ্ন কালেক্ট করবো। সেখানে চাইলে আপনিও (সাংবাদিকদের) প্রশ্ন দিতে পারবেন।’

‘গৃহীত প্রশ্নপত্রের মান যাচাইয়ে গঠিত কমিটি প্রশ্নের মান যাচাই করবেন। সেখান থেকে একটি প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করা হবে। উক্ত প্রশ্ন ব্যাংকের জন্য একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হবে। সকল মানের প্রশ্নের বিন্যাস থাকবে সেখানে। এডমিনিস্ট্রেটরও জানবেন না, কী প্রশ্ন যাচ্ছে।’

‘উক্ত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে সেন্ট্রালি একটি কমান্ডের মাধ্যমে দেয়া হবে। তা প্রতিটি পরীক্ষার হলরুমের ফ্রন্টে একটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। তখন উক্ত হলের সকল শিক্ষার্থী স্ক্রিনে থাকা প্রশ্ন দেখে পরীক্ষার উত্তর দেবে। ফলে কোনো সুযোগ থাকবে না আর ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না,’ এভাবেই ব্যাখ্যা দেন শিক্ষা সচিব।

তবে এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা হয়তো এখনো ঐ পর্যায়ে যেতে পারিনি। যে পরিমাণ কেন্দ্র ও শিক্ষার্থী তাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এ ধরণের সিস্টেমে আসতে না পারলে আপনি প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পারবেন না।’

শিক্ষা সচিব আরো বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আরও কিছু মতামত নিচ্ছি। আমিও এ বিষয়টা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। আশা করি আমরা ভাল কিছু করতে পারবো।’

পরীক্ষা বাতিল প্রসঙ্গে:

শিক্ষা সচিব বলেন, ‘পরীক্ষা বাতিল হবে কিনা এ নিয়ে একটি কমিটি আমরা গঠন করে দিয়েছি। কমিটি কাজ করছে। কয়েক দফা তারা বসেছে। তারা দেখছে কত ভাগ পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়েছে। তারপর তারা সুপারিশ দিলে আমার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে উক্ত কমিটি সুপারিশ করার পর বড় পরিসরে আমাদের বসতে হবে। সেখানে প্রশাসনেরও বিভিন্ন স্তরের লোকেরা থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি দেখে মেজরিটির বক্তব্য পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে, তাহলে হয়তো তা বাতিল হতে পারে। এটা একটা বড় ধরণের সিদ্ধান্ত।’

বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে কতদিন লাগবে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘কমিটি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করছে। আমি জানিনা উনারা সবগুলো পরীক্ষার এক সাথে রিপোর্ট দেবে নাকি খণ্ডিত আকারে দেবে। রিপোর্ট যেভাবে দেবে আমরা সেভাবেই দেখবো।’