চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাতসহ আটক ১২ (ভিডিও)

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৮ ১৬:২৮:৫০ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৮ ১৬:৫২:৪৭

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনসহ অন্তত ১২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন চত্বরে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের আটক করে।

এদিকে এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপি নাসিমন ভবন চত্বরসহ নগরের সাতটি মোড়ে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বিএনপির কাউকে রাস্তায় দেখা যায়নি।

তবে শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির ৩৫-৪০ নেতা-কর্মী আজ সকালে নাসিমন ভবনের সামনে নুর আহমদ সড়কের ফুটপাতে প্রথমে অবস্থান নেন। পুলিশি তৎপরতার কারণে ফুটপাত ছেড়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা নাসিমন ভবনের চত্বরে চলে যান।

নগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিজেদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর ঢিল ছোড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন। এরপর পুলিশ অ্যাকশনে গিয়ে শাহাদাত হোসেনসহ ১০-১২ জনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে নগরের তিনটি প্রবেশপথসহ অন্তত ১৭-১৮টি মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ প্রচার করছেন। নগরের বিভিন্ন মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ফাঁকে ফাঁকে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাদের বিএনপি-জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। বেলা আড়াইটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন মোড় এবং রাজপথ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দখলে থাকতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারের বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদাকে এই রায় দেয়। মামলায় তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামীদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুর ২টা ১৪ মিনিটের দিকে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন বিচারক বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটের দিকে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন তিনি। এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালত চত্বরে পৌঁছান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এরই মধ্যে রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে তার দলের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা। সেখান থেকে আটক করা হয়েছে অনেককে।

এর আগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মগবাজার এলাকায় এলে শত শত নেতাকর্মী সেখানে যুক্ত হন। এ সময় রাস্তার পাশেও অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে সেখানে যুক্ত হন। তারা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিয়ে এগোতে থাকেন।

এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনতিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ফলে দেশবাসীর আগ্রহ অন্যরকম। রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই টানটান উত্তেজনা জনমনে ছড়িয়ে পড়ে। রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির মাঠে রায় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনও।

দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

বিএনপির অভিযোগ এই রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাশকতা ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে ৪৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহল শুরু করেন।