চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খালেদার মামলার রায়: আতঙ্কে পর্যটক শুন্য কক্সবাজার

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৭ ১৪:১৯:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৭ ১৭:৪৯:৩২

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মুখোমুখি অবস্থানে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর অবস্থানে পুলিশ প্রশাসনও। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সমুদ্রসৈকত ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যেও।

ডিসেম্বরের পর থেকে কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনস, টেকনাফ, ইনানী সৈকত, হিমছড়ি, রামু, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোয় হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করে। কিন্তু হঠাৎ করেই গত দুই দিনে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যটক তড়িঘড়ি করে কক্সবাজার ছেড়েছেন।

কক্সবাজার কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ বলেন, ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন শুরু, চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কায় ভ্রমণে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা সফর সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এতে খালি হয়ে যাচ্ছে হোটেল-মোটেল। এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোটেল–মোটেলে ২০ শতাংশ আগাম বুকিং বাতিল করা হয়েছে।

অনেকেই সফর সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছাড়ছেন। গতকাল  সরেজমিনে ঘুরে হোটেল মালিক ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী আরিফ বলেন, `পরিবার-পরিজন নিয়ে কক্সবাজার এসেছি দুই দিন হচ্ছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রাতেই ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমাতে হবে।৮ ফেব্রুয়ারি কী হয় জানি না। এর আগেই বাড়ি না পৌঁছলে আটকে থাকতে হবে।

`কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলেন, `জামায়াত নেতা সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে কক্সবাজারে হঠাৎ করেই কয়েক হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিল। ওই আতঙ্ক থেকেই পর্যটকরা ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় আগেভাগে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।`

পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছেন তাঁরা।

জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে একটি মহল সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। জনগণের জানমালের ক্ষতি হয় এ রকম নৈরাজ্য কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বকশীবাজারে বিশেষ জজ আদালত-৫-এ ঘোষণা করার কথা রয়েছে।