চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের সাহায্যে হটলাইন চালু

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৬ ১৩:০৭:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৬ ১৩:০৭:০৮

আদালত-সরকার দ্বন্দ্বের জেরে মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের একটি হটলাইন নম্বর দেয়া হয়েছে।

সোমবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

মালদ্বীপের সাড়ে তিন লাখ নাগরিকের মধ্যে এখন লাখখানেকই বাংলাদেশি। তারা কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ হোটেল-রেস্টুরেন্টে রান্নার কাজ করছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজনে একটি হটলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। নম্বরটি+৯৬০৩৩২০৮৫৯। অপ্রয়োজনে কর্মস্থল ছাড়া অন্য কোনো স্থানে অবস্থান না করতে বলা হয়েছে। অবসরে নিজ আবাসে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ ও ভিড় এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে দেশটিতে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে।

গত বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং বিরোধী দলের ১২ এমপিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে রায় দেয় এবং তাদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের ওই রায়ের পর নাশিদের দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মালদ্বীপের ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানতে অস্বীকার করে পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিলে মালদ্বীপে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে ক্ষমতা থেকে সরানো বা ইমপিচ করার যেকোনো উদ্যোগ ঠেকানোর আদেশ দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে।

সোমবার রাতে সরকার ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। জরুরি অবস্থা জারির ফলে দেশটির সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকারের বেশ কিছু বিধান এখন কার্যকর থাকবে না। নিরাপত্তা বাহিনীও বাড়তি ক্ষমতা ভোগ করবে।

অবশ্য প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও জনগণের চলাফেরা, চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর জরুরি অবস্থার কোনো প্রভাব পড়বে না।

সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাদণ্ড পাওয়া বিরোধী দলের ১২ এমপির মধ্যে নয়জন কারাভোগ করছেন। স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা আব্দুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদ রবিবার দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে দেশটির প্রধান বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। এ দলের নেতা সাবেক প্রেসিডন্ট নাশিদ শ্রীলঙ্কায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন। তিনি দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট।