চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডাবুয়া স্লুইচ গেইটটি অকেজো!

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০১ ১৫:০৬:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০২-০১ ১৫:০৭:৩৩

মো. হাবিবুর রহমান
রাউজান প্রতিনিধি

২০০৬ সালে কৃষকদের অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ডাবুয়া স্লুইচ গেইট। কৃষকদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। নির্মাণের পর থেকেই স্লুইচ গেইটটি কৃষকদের কাজে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

জানা গেছে, ডাবুয়া খাল পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাউজান সর্তাখাল হয়ে হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়। বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে চাষের জমিতে সরবরাহ করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ডাবুয়া খালের উপর আলীখীল এলাকায় ডাবুয়া স্লুইচ গেইট নির্মাণ করেছিল । কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। এটি এলকাাবাসীর জন্য আর্শিবাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, স্লুইচ গেইটের গোড়ায় পলি ও বাঁশ-গাছ আটকে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে স্লুইচ গেইটের পশ্চিম পাশে ভেঙে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

খালের দু’পাড়ের কৃষকরা জানান, ডাবুয়া খাল জোয়ার-ভাটার খাল নয়, উঁচু থেকে নেমে আসা একমুখী বৃষ্টির পানি দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। আলীখীল এলাকার স্থানীয় কৃষক নাজিম উদ্দিন ও নুরুল আলম বলেন, নির্মাণের পর থেকেই স্লুইচ গেইটটি এলাকার কৃষকদের উপকারে আসেনি। নির্মাণের বছরখানেকপর স্লুইচ গেইটের পূর্ব পার্শ্বে বিশাল ভাঙন সৃষ্টি হয়। পূর্বপার্শ্বে ভাঙনরোধ করা হলে আবার পাশ্চিম পাশে ভাঙন সৃষ্টি হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ডাবুয়া খালের পানি দিয়ে প্রায় সাড়ে ৬’শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। উৎ

পাদিত প্রচুর পরিমাণ মৌসুমি সবজি উপজেলার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও চলতি মৌসুমে পানির সংকটে শত শত একর জমিতে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। ডাবুয়া খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিউল আজম বলেন, এক ¯্রােতি খাল হওয়ায় পানি ধরে রাখতে পারেনা। তাই বর্ষা মৌসুমে এটা ভেঙে যায়।’ এই প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘স্লুইচ গেইট দেখবাল করার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের। ডাবুয়ায় ওই বিভাগের কোন লোক নেই। সংশ্লিষ্টদের জানানোর পরও এখনোও কার্যকরী ব্যবস্থা নেয় নাই।

একই প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডাবুয়া স্লুইচ গেইট বন্যার কারণে অকেজো হয়েছে। এটির জন্য এলজিডি ৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ পেয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। নির্মাণের পর থেকেই স্লুইচ গেইটটি কৃষকদের কাজে আসেনি স্থানীয় কৃষকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিতো তখন ছিলাম না। কিন্তু এটা যারা লোকালপার্টি ডিভিশন দেখবাল করার কথা তারা না করলে তাহলে কেমনে সচল থাকবে? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।’