চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে ৯ বছর বয়সী মিমকে ধর্ষণের পর হত্যা, শিশু এই পাষণ্ড কারা?

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৩ ২৩:৩৬:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৪ ১০:৪২:৩৩

দুই দিন আগে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনি এলাকার ‘আয়শা মমতাজ মহল’ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, পুলিশ এখনও তা উদ্ধার করতে পারেনি। তবে পুলিশ দাবি করছে, মিমকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

রবিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে মিমের লাশ উদ্ধারের পর আয়শা মমতাজ মহলের তত্ত্বাবধায়ক মনিরুল ইসলাম ওরফে মনুকে (৪৯) আটক করে পুলিশ। কিন্তু গত দুই দিনেও তারা মনুর কাছ থেকে কোনও তথ্য পায়নি।

মিমের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরদিন সোমবার (২২ জানুয়ারি) রাতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। মামলায় সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উম্মোচনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য পাইনি। ভবনের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মিমের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা আয়শা মমতাজ মহলের আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন তারা।

সোহান নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘রবিবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলাম। বাসার (আয়শা মমতাজ মহল) সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় দ্বিতীয়তলার সিঁড়ির পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখি। দেখেই প্রথমে পাশের দুই ফ্ল্যাটের লোকজনকে জানাই। পরে ভবনের সবাইকে বিষয়টি জানাই। এরপর নিচে নেমে থানার নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশে খবর দিই।’ তিনি বলেন, ‘লাশটি উত্তর-দক্ষিণমুখী করে রাখা ছিল।’

আয়শা মমতাজ মহলের পাশের দোকানদার মামুন বলেন, ‘ঘটনা শুনে ওপরে গিয়ে লাশটি দেখে মনে হয়েছে, লাশটি ওপর থেকে নিচের দিকে আনা হয়েছে। ওপর থেকে কেউ লাশটিকে কোলে করে এনে সেখানে রেখেছে বলে আমার মনে হয়েছে।’

ওই ভবনের আশাপাশের আরও কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, সম্ভবত্ব মেয়েটিকে এই ভবনেই হত্যা করা হয়েছে। বাইরে হত্যা করা হলে লাশ নিয়ে আসার সময় আমাদের কারও না কারও চোখে পড়তো।

মেয়েটিকে ওইদিন বিকালে কেউ দেখেছেন কিনা জানতে চাইলে কেউ দেখেননি বলে তারা জানান।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি রাতে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মিমের (৯ বছর) লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে পুলিশ মেয়েটির পরিচয় পায়নি। পরে তার বাবা-মা এসে লাশটি শনাক্ত করেন। মীম স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ও রাবেয়া বেগমের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা জামাল কাপড় ধোয়ার কাজ করেন।

লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ জানিয়েছিল, রাত ১০টার দিকে থানায় খবর আসে আয়শা মমতাজ মহলের সিঁড়িতে এক শিশুর লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা রাতে লাশটি দাফন করে।

এদিন দুপুরে বিশ্ব কলোনি এলাকায় মিমদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে ইটের বাউন্ডারি দেওয়া একটি ফ্ল্যাটের এককোণে পলিথিন দিয়ে তাঁবু খাটিয়ে তার পরিবার থাকছে। পাশে ওই ফ্ল্যাটের মালিক তাদের জন্য অস্থায়ী একটি ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। ঘরটির নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। ওই ফ্ল্যাটের এক পাশে কাপড় ধোয়ার জন্য ব্যবস্থা করা আছে। সেখানে মিমের বাবা জামাল কাপড় ধোয়ার কাজ করেন।

নিহত মিমের ছোট মামা মো. রিয়াজ  বলেন, ‘রবিবার আছরের নামাজের সময় মিমসহ আমরা সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাই। পরে আমরা যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। বিকাল প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে সে বেরিয়ে যায়। তারপর সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় আমরা তাকে খুঁজতে শুরু করি। এরপর রাত ১০টার দিকে আমরা জানতে পারি, তার লাশ পাওয়া গেছে।’

মিমের বাবা জামাল হোসেন বলেন, ‘পাশের বাসার দুই শিশুর সঙ্গে খেলতে বেরিয়ে যায় মিম। এরপর আমরা আর তার খোঁজ পাইনি। পরে পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারি, একটি ভবনের সিঁড়িতে তার লাশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার এই ছোট মেয়েটিকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

তার বড় মামা ফখরুল আলম বলেন, ‘আমার বোন এবং স্বামীর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। যারা পাশবিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আমরা তার বিচার চাই।’ তিনি বলেন, ‘ভবনের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনুকে রিমান্ডে নিলে ঘটনার কারণ জানা যাবে। মনু সবসময় মদ পান করে। পুলিশ তাকে আটক করার সময়ও সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল।’-বাংলা ট্রিবিউন