চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঝুঁকছে লাভজনক টার্কি মুরগী পালনে

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৩ ০৯:৫৯:২৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৩ ১৯:৩৯:৩৮

মিরসরাইয়ে গড়ে উঠছে টার্কি মুরগি খামার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

টার্কি মুরগি নামে বড় আকারের মুরগি পালন আমাদের দেশে শুরু হয়েছে বেশীদিন হয়নি। ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যে বেশ লাভজনক হয়ে উঠার পর চট্টগ্রামে এই মুরগির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার গড়ে তোলায় অনেকেরই আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মিরসরাই উপজেলায় ও এই লাভজনক মুরগি পালন দিনে দিনে বেড়ে উঠেছে ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গৃহপালিত এই টার্কি মুরগির পালন ও প্রচারনা দেখে সম্প্রতি মিরসরাইয়ের ফেনাফুনি এলাকার মোঃ ছায়েফ উল্যাহর ছোট্ট পরিসরের টার্কি খামারে গিয়ে দেখা যায় ছোট্ট হলে ও সফলতার পথে তিনি ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন পূর্বে উনার বন্ধু কাজী শাফিকুল ইসলাম সুমন উনাকে পরামর্শ দেন। আপনার বাড়ীতে যে খালি জায়গা পড়ে আছে তাতে আপনি টার্কি মুরগির চাষ করতে পারেন। সে পরামর্শে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টার্কি ভিডিও দেখে উনার আরেক বন্ধু জনাব জসিম উদ্দিন চৌধুরী সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার টার্কির ফার্ম পরিদর্শন করে। সিদ্ধান্ত নেন টার্কি মুরগির চাষ শুরু করেন। জয়পুর হাট থেকে ৯ টা টার্কি মুরগি সংগ্রহ করে লালন পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার ১২০০ বর্গফুটের খামারে একমাস বয়সী থেকে আট মাস বয়সী শতাধিক টার্কি পালন করা হচ্ছে।

তিনি জানান টার্কি পালনের পাশাপাশি আমার স্বপ্ন টার্কি পালনে বিপ্লব ঘটানো। ঘরে ঘরে টার্কি পালনের উদ্বুদ্ধ করে মিরসরাইয়ের সর্বত্র তিনি এই মুরগি পালন ছড়িয়ে দিতে চান । তিনি বলেন স্বল্প পুজিঁতে অধিক লাভ করতে চাইলে টার্কি চাষের বিকল্প নেই। মুরগির খামার করতে যে পরিমান পরিশ্রম হয় তার চেয়ে কম পরিশ্রমে টার্কি পালন করে অধিক লাভবান হাওয়া সম্ভব। বিপননের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন- বর্তমানে বিপননের তেমন কোন সমস্যা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে (তামরিজ এগ্রো টার্কি ফার্ম-মিরসরাই), ও স্থানীয় বাজারগুলোতে ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রচারনা চালাই। ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে সপ্তাহে ( শুক্রবার ) ১দিন খামারের সামনে মাংস খুচরা বিক্রি করি। প্রতি কেজী ৬০০ (ছয়শত) টাকা করে বেশ বেচা কেনা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, ৬ মাস বয়সী টার্কি-ই বিক্রি করে থাকি তাতে লাভও ভাল হয়। ৬/৭ কেজি হয় জানিয়ে বলেন কেউ পুরো একটা কিনলে ৫০০ (পাঁচ শত টাকা) কেজি দরে বিক্রি করি। এছাড়া সুপার স্টোর, অভিজাত রেস্তেুারা ও বিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে টার্কির চাহিদা থাকলেও আমার এখানকার উৎপাদন দিয়ে সেই চাহিদা পূরন সম্ভব নয়। এদিকে অপর টার্কি পালন করা গৃহিনী তাছলিমা চৌধুরী বলেন আমি আমার বাসার ছাদে একটি শেড আকারের ঘর বানিয়ে বেশ কয়েকটা টার্কি পালন শুরু করেছি। অবসর সময় ও কাটে বড় বড় সাইজের মোরগ মুরগিদের সাথে ভাব বিনিময় করে অবসর সময় কাটাতে বেশ ভালোই লাগে।

তিনি বলেন মিরসরাইয়ে যদি বড় বড় টার্কির খামার থাকতো তাহলে বড় বড় অনুষ্ঠান সহ সকলে টার্কি মাংস সহজে পেত। টার্কি খামারী ছায়েফ উল্যাহ আরো বলেন ফেসবুক ও ব্যানার টাঙিয়ে প্রচারনা চালানোর পর ইতিমধ্যেই মিরসরাইয়ের অনেক ব্যক্তি খামারী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং সহায়তা চেয়েছেন। লোক মুখে শুনেও অনেকে আমাদের টার্কি চাষ শেখার জন্য আসেন। তিনি জানান, টার্কি চাষের জন্য খামারীদের প্রশিক্ষন প্রদান ও চাষ শুরুর ব্যবস্থা করে দিবো। টার্কি চাষে শুরুতেই কেমন পূজির প্রয়োজন হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে ছায়েফ বলেন, ৩ টি মাদি (স্ত্রী টার্কি) ও ১টি নর (পুরুষ) টার্কি দিয়ে চাষ শুরু করা যায়। বাচ্চা অবস্থা থেকে লালন পালন করতে চাইলে ৪টি বাচ্চা টার্কির দাম পড়ে ৪হাজার টাকা বাসার ছাদ কিংবা খালি জায়গায় ছোট একটা সেড করতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে হাজার দশেক টাকা ব্যয় করলেই চলে। আবার কেউ যদি বড় টার্কি কিনে চাষ শুরু করতে চান তাহলে ৪টি টার্কির দাম পড়বে ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া সেড বানাতে লাগবে ৫-৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করলেই চলবে।

টার্কি পালনের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ঝামেলাহীন ভাবে দেশি মুরগির মতো পালন করা যায়। টার্কি বয়লার মুরগির চেয়ে দ্রুত বাড়ে। বাচ্চা অবস্তায় ১ম তিন মাস দানাদার খাবার খায় পরের ৩ মাস সবজি জাতিয় খাবার ও ঘাস লতা পাতা খেয়েই টার্কি বড় হয়। তিনি বলেন একমাস বাচ্চা টার্কি বিক্রি করতে (৬মাস বয়সী) ১৮ শত থেকে ১৯ শত টাকা ব্যয় হয়। আর প্রতিটি টার্কিতে লাভ ১হাজার থেকে ১১ শত টাকা

। জানা যায় টার্কি বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাবারের উল্লেখ যোগ্য অংশ দখল করে আছে। পুষ্টি বিদদের উদ্ধিৃতি দিয়ে ছায়েফ বলেন টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমান বেশি, চর্বি কম তাই গরু কিংবা খাসির মাংসের বিকাল্প হতে পারে। টার্কির মাংসে অধিক পরিমান জিংক লৌই, পটাশিয়াম ও ফসফরাস থাকে। নিয়মিত টার্কির মাংস খেলে কোলেস্টোরেল কমে যায়। বর্তমানে আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং পরিবেশ ও টার্কির জন্য খুবই উপযোগি। তাই এখন থেকে এই টার্কি পালন করে মানুষ সহজে নিরাপদ আমিষের অভাব পুরন করতে পারে।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি পোদ্দার বলেন, টার্কি আসলেই একটি লাভজনক গৃহপালিত প্রাণী। যে কেউ টার্কি পালন করতে চাইলে আমরা সকল সেবা প্রদান করতে প্রস্তুত। ইতিমধ্যে উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধকরণে ও সহায়তা করছেন বলে জানান তিনি।