চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আড্ডায় পুলিশের নজরদারি

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২২ ১৪:০৩:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৩ ১০:০৪:৪৯

নগরীর বিভিন্ন স্থানে কিছু শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের আড্ডায় নজরদারি করছে পুলিশ। সাধারণ আড্ডার ছদ্মাবরণে ‘সশস্ত্র আড্ডা’ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ এমন উদ্যোগ নিল। তবে উদ্যোগের শুরুতেই বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছে এ কার্যক্রম। কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীকে আটকের পর নেতারা শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের দফায় দফায় ফোন করছেন আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য।

গত ১৬ জানুয়ারি নগরীর জামালখান এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান আসপারকে হত্যার পরই ‘আড্ডার’ বিষয়টি সামনে এসেছে। ওই খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই শিক্ষার্থী এবং এরা সশস্ত্র আড্ডা দেয়-এটা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও অস্ত্র ও ছুরি ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে আসামিরা।

আদনান হত্যা মামলার পাঁচ আসামি গ্রেপ্তারের পরপরই যখন কিশোরদের আড্ডা ও আড্ডায় অস্ত্র রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখনই পুলিশ আড্ডা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে। কিন্তু এতে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক নেতাদের ফোন।

গত শনিবার বিকেলে আদনান হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি যে রেস্তোরাঁ থেকে নিয়েছিল আসামি মঈন সেই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে সাব্বির নামের একজনকে আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় ‘মেজ্জান হাইলে আইয়্যুন’ নামে রেস্টুরেন্টটিতে তল্লাশিও চালানো হয়। সাব্বিরকে আটক করে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়ার পরপরই নগর ছাত্রলীগের একজন সহসম্পাদক গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে দফায় দফায় ফোন করেন সাব্বিরকে মুক্ত করতে। পরে পুলিশ সাব্বিরের নামে মামলা নেই-নিশ্চিত হওয়ার পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

শনিবার রাতে দ্বিতীয় অভিযান চলে বায়েজিদ বোস্তামী থানা ও খুলশী থানা এলাকায়। দুই থানা পুলিশ অন্তত ১৪ জনকে আটক করে। এর মধ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ১২ জন এবং খুলশী থানা পুলিশ দুজনকে আটক করে। বায়েজিদ থানার মোজাফফরনগর এলাকার একটি ভবনের ছাদে তল্লাশি করে পুলিশ ১৫টি দা-কিরিচ উদ্ধার করে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়নি। গ্রেপ্তারও দেখানো হয়নি। পুলিশ বলছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আটককৃতরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের আটকের পর থেকে নগর ছাত্রলীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগের দুয়েকজন নেতা শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোনে তদবির করতে থাকেন। এই কারণে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা দেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে থানা পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে আড্ডা দিচ্ছে কিশোরের দল। এসব আড্ডায় যে আগে অস্ত্র থাকত, সেটা প্রকাশ পায়নি। তাই তাদের তল্লাশির আওতায় আনা হয়নি। এখন বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর আড্ডাবাজদের তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে। আড্ডা কিংবা মোটর রেইস যাই-হোক, পুলিশ উচ্ছৃঙ্খল যুবক-কিশোরদের থামানোর উদ্যোগ নেবে। তবে এ জন্য পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও দরকার।

উচ্ছৃঙ্খল আড্ডাবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, ‘আড্ডা যেখানেই হোক এখন থেকে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কিশোররা শিক্ষার্থী। তারা পড়ার সময় পড়বে, খেলার সময় খেলবে। অহেতুক আড্ডা দেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের আড্ডা অপরাধের উৎসস্থলে পরিণত হচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে। তাই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’

একই বিষয়ে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আবদুল ওয়ারিশ বলেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল আড্ডাবাজদের দেখলেই পুলিশ তাদের ধরবে এবং অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা দিয়ে হস্তান্তর করা হবে। তবে পরবর্তীতে উচ্ছৃঙ্খলদের আড্ডায় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার জোনের চার থানায় এই কার্যক্রম চলমান আছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যায়, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিষয়ে সতর্ক হন। পরিবার সতর্ক থাকলে কার্যকর সুফল পাওয়া সম্ভব। এখন থেকে এই কার্যক্রম আরো বাড়ানো হয়েছে।’

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ