চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

মীরসরাইয়ে আসছে ৪০ হাজার কোটি টাকার চীনা বিনিয়োগ

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২২ ১০:৩৫:৪০ || আপডেট: ২০১৮-০১-২২ ১৬:৪২:৩১

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক জোন হিসেবে সম্ভাবনার ডানা মেলেছে মীরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চল। রামগড় সীমান্ত হয়ে ভারতের সাথে চট্টগ্রামের নতুন কানেকটিভিটি, একই সংযোগ দিয়ে চীন, ভূটান ও নেপালের সাথে স্থল কানেকটিভির নতুন দীগন্ত।

অপার সম্ভাবনার এই পর্যায়ে মীরসরাইতেই গড়ে উঠছে দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত আধুনিক শিল্প শহর, যা ইতোমধ্যে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এবার এই ভবিষ্যৎ শিল্প শহরের জন্য রেকর্ড অঙ্কের বিনিয়োগ প্রস্তাব অবশেষে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে । চীনের জিজিয়াং জিনদুন প্রেসার ভেসেল নামের একটি কোম্পানি অবশেষে ৪০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

বেজা কনসালটেন্ট আব্দুল কাদের খান শুক্রবার জানান চীনের জিজিয়াং জিনদুন প্রেসার ভেসেল কোম্পানির চেয়ারম্যান জো জিয়ানকান কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর কাছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার চূড়ান্ত বিনিয়োগ প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। ইতিমধ্যে বেজা চেয়ারম্যান সকল বিষয় খতিয়ে দেখে যাচাই বাছাই করছেন। শীঘ্রই তাদের অনুকূলেই চূড়ান্ত অনুমোদন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

যা সম্পন্ন হলে এটি হবে এশিয়ার বৃহৎ শিল্পএলাকা। চীনা উক্ত কোম্পানীর প্রস্তাবনায় মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তারা এক হাজার একর জমি বরাদ্ধ চেয়েছেন। জমি পেলে সেখানে দুই হাজার ৬৪০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাবে কোম্পানিটি। সে কেন্দ্র হবে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন ৫০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বেজা সূত্র আরো জানায়, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখন পর্যন্ত এটাই সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ প্রস্তাব। এই কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজিয়াংয়ের প্রস্তাবটি তারা ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। কারণ, এটি চীনের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। প্রকল্প অনুমোদন পেলে এরা পরিবেশবান্ধব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে।

এদিকে প্রস্তাবের সঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যান জমির লিজ বাবদ সাত লাখ ডলারও জমা দিয়েছেন। ৫০ বছরের জন্য জমি লিজ দেয়ার কথা রয়েছে। এর আগে জিজিয়াং ২০১৫ সালে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে সরকারের সঙ্গে এমওইউ সই করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আসছে এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেয়া হলো।

বেজা আরো জানায় মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে দেশি-বিদেশি অনেক কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। অনেকের সঙ্গে এমওইউ সই হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির বিপরীতে ১০ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বেজা। জিজিয়াং জিনদুন প্রেসার ভেসেল কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট রিলেয়েন্ট ইনকরপোরেশনের চেয়ারম্যান সাবেদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যান্ডি সঙ এবং পরিচালক হিসেবে আছেন লীয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিনিয়রস ক্লাব লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মানিক বাবলু।

উদ্যোক্তা গ্রুপের স্থানীয় এজেন্ট সূত্র জানায়, জিজিয়াং জিনদুন প্রেসার ভেসেল কোম্পানির বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে শুধু অবদান রাখবে না, স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রসঙ্গত বেজা এরই মধ্যে চরের জমির মধ্যে ১৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক তৈরি করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে জোন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ফোরলেন সড়ক নির্মান কাজ ও চলছে।

চার লেনের এ সড়কের নামকরণ করা হয়েছে শেখ হাসিনা সরণি। অন্যদিকে সমুদ্রের জোয়ারের পানি থেকে এ শিল্প শহর রক্ষার জন্য এক হাজার ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এদিকে চায়না হারবার কোম্পানি এরই মধ্যে ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে।

প্রায় দুই লেনের ১৬ কিলোমিটারের এ বাঁধ তৈরিতে ব্যবস্থাপনার কাজ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ইজেডের একটি অংশে টানা হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিজিসিবি ২৩০ কেভি গ্রিড স্টেশন স্থাপন করবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে উক্ত জোন পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। মীরসরাইয়ে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি ও প্রক্রিয়াধীন।

সব মিলিয়ে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই বানিজ্যিক জোন এখন আর স্বপ্ন নয়। বাস্তবতার সমান্তরালে দৃশ্যমান হয়েই গিয়ে যাচ্ছে।