চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে বাড়ছে কিশোর অপরাধ

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২২ ০৮:৪২:৪৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-২২ ০৯:০০:০৭

মসরুর জুনাইদ
সম্পাদক ও প্রকাশক, সিটিজি টাইমস ডটকম

সমাজে বেড়ে গেছে কিশোর অপরাধ। যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে খেলার কথা, সেই বয়সের কিশোররা এখন ছুরি–চাকু এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মাস্তানি করে, মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। মেয়েদের দিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে, শিস বাজায়। বাধা দিলে রক্তারক্তি, খুনাখুনি করে।

অধুনা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর দেশে দেশে একটি সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটি হলো কিশোর অপরাধ। কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চুরি, হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, পকেটমার, মাদকসেবন, ইভটিজিং (Eve-teasing) ইত্যাদিসহ এমন সব ভয়াবহ কাজ করছে, এমন সব অঘটন ঘটিয়ে চলছে এবং এমন সব লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছে যা কি না অকল্পনীয়।

বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানী, অপরাধবিজ্ঞানী, আইনবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীলসমাজকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে সভ্যতার এ চরম উৎকর্ষের যুগে আমাদের আগামী দিনের আশা ভরসার স্থল কিশোরসমাজের এ ব্যাপক বিপর্যয় সত্যিই বড় দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক।

চট্টগ্রাম

স্কুল-পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ‘গ্রুপভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায়’ চট্টগ্রাম নগরীতে বাড়ছে কিশোর অপরাধ; তাদের মারামারি কখনও কখনও গড়াচ্ছে খুনোখুনিতে। সম্প্রতি স্কুলছাত্র আদনান ইসফার হত্যার ঘটনাতেও কিশোর অপরাধীদের দায়ী করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য মতে, ‘রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের কথায় অসংখ্য কিশোর অপরাধে জড়িয়ে নিজেদের ধ্বংস করছে।’ শুধু কি তাই! এখানে আর কারো সহায়তা নেই? সম্প্রতি চট্টগ্রামের স্কুলছাত্র আদনান ইসপার হত্যার সঙ্গে জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা সবাই আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে। এদের সবাই গরিব পরিবারের সদস্য। টাকার অভাবে এরা তাদের ইচ্ছা পূরণে সক্ষম নয়। নয় বলেই অনৈতিকতার বলয়ে এদের ম্যারাথন যাত্রা। কথাগুলো আমার নয়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি সঙ্গ দোষের কথাও বলেছেন।

রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের কথায় অসংখ্য কিশোর অপরাধে জড়িয়ে নিজেদের ধ্বংস করছে

অপর এক নগর গোয়েন্দা পুলিশ সহকারী কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন বলেছেন, কিশোরদের নিয়ন্ত্রণ করতে বাবা-মা ও শিক্ষকরা ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি আরো বলেছেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও বলেছেন একই কথা। কিন্তু আসল কথাটি থেকে গেছে সবার পেছনে। অনেকটা আড়ালে। কেউই বলছেন না আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতি গোটা জাতিকে আজ এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, নগরীর ১৬ থানা এলাকায় প্রায় অর্ধশত কিশোর গ্যাং রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট স্কুল, কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজ, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাজেরা তজু উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি হাই স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্কুল ভিত্তিক এসব কিশোর গ্যাং ছাত্রলীগের নামে সক্রিয়।

যারা নগরীর স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, চকবাজার, মেডিকেল হোস্টেল, শিল্পকলা একাডেমি, সিআরবি, খুলশি, ফয়েস লেক, ডেবারপার, চান্দগাঁও শমসের পাড়া, ফরিদের পাড়া, আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি, সিডিএ, ছোটপুল, হালিশহর, বন্দর কলোনি ও পতেঙ্গার বেশ কয়েকটি এলাকায় মাদক বেচাকেনাসহ মোটরসাইকেল ও সাইকেল ছিনতাই, গান-বাজনা, খেলার মাঠ, ডান্স ও ডিজে পার্টি, ক্লাবের আড্ডাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণে মরিয়া।

শুধু তাই নয়, এসব কিশোর গ্যাং চক্র মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনায় জড়িত। নিজ এলাকা ছাড়িয়ে অনেক সময় তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে থাকে। এসব কর্মকান্ডে মোটরবাইক ব্যবহার হয় বেশি। যা পুলিশের নজরে থাকলেও কিশোর হওয়ার কারনে বিষয়টি তেমনভাবে ভাবা হয়নি।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. কামরুজ্জাামান এ প্রসঙ্গে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অধিকাংশ কিশোরের নিজস্ব মোটরবাইক রয়েছে। ফলে মোটরবাইকে করে যে কোন অপরাধ কর্মকান্ডে ঘটনাস্থলে পৌছে যায় তারা। অপরাধ কর্মকান্ডে এই মোটরবাইক তাদের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মোটরবাইক হাতে পাওয়া কিশোররা একেবারেই বেপরোয়া। যারা রাস্তায় দাপিয়ে চলে। মোটরবাইকে স্কুলে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এদের অনেকে স্কুলের শিক্ষক ও অভিবাকদের মানে না। হেরফের হলে অপদস্তও করে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থ ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে এসব কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান। এদের শক্তির মূল বাহন হচ্ছে মোটরবাইক। যা শখের বশে কিনে দিয়েছে মা-বাবা। আবার অনেক কিশোর অপরাধ কর্মকান্ড করে টাকা পেয়ে মোটরবাইক কিনেছে।কিশোর অপরাধ বন্ধ করতে পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন দরকার। পারিবারিক অনুশাসন বাড়াতে হবে। সামাজিক অনুশাসন পুনরুদ্ধার করতে হবে। রাজনৈতিক ইন্ধন বন্ধ অথবা প্রত্যাহার করতে হবে। ইন্ধনদাতা বড় ভাইদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সারাদেশ 

দেশের দুই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেখানে থাকা কিশোরদের ২০ শতাংশ খুনের মামলার আর ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামী। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলোর বেশির ভাগই ধর্ষণের অভিযোগে করা। বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আসা এসব কিশোরের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের সন্তান যেমন আছে, তেমনি আছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানও। তাদের অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী, ৯ থেকে অনুর্ধ্ব ১৮ বছরের কোনো ছেলেশিশু অপরাধে জড়ালে তাদের গাজীপুরের টঙ্গী ও যশোরের পুলেরহাটের কিশোর (বালক) উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়।

এ দুটি কেন্দ্র থেকে সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য পাঠানো হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। ওই দিন কেন্দ্র দুটিতে ছিল ৫৯৭ কিশোর। তাদের মধ্যে ১২০জন হত্যা মামলার আসামি। ১৪২ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলা এবং ৯ জন তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলার আসামি। এর বাইরে চুরির মামলায় ৮৯, ডাকাতি ১৬, ছিনতাই ৬, মাদক মামলায় আছে ৫ জন। অন্যরা সাধারণ ডায়রিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। এ ছাড়া গাজীপুরের কোনাবাড়িতে নির্মিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রটি মেয়েদের জন্য। অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন আর্থ–সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বা তথ্যপ্রযুক্তি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ।

কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আচরণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন

কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আচরণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে জানিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এরা পাড়ার মোড়ে মোড়ে দল বেঁধে আড্ডা দেয়, মেয়েদের ইভটিজিং করছে। বড়দের সামনে প্রকাশ্যেই একের পর এক সিগারেট ফোঁকে। বখে যাওয়া এসব সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, তার বেশির ভাগ খবরই রাখেন না তাদের অভিভাবকরা। কিশোর বয়সে দামি ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, রাত জেগে মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং নতুন নতুন বন্ধু তৈরির সাথে ধীরে ধীরে অসৎ সঙ্গে মিশে যাওয়াকে দায়ী করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

বাবা–মায়ের অসচেতনতা এবং সময় না দেওয়ার কারণেই শিশু–কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। শিশু বয়সেই দামি ফোন কিনে দেওয়ার ফলে প্রযুক্তি থেকে ভালো শিক্ষার পরিবর্তে খারাপ শিক্ষা নিচ্ছে। বিভিন্ন পর্নোসাইডে প্রবেশসহ সারাবিশ্ব জানতে গিয়ে নিজের অজান্তেই অন্ধকার জগতে পা বাড়াচ্ছে। এদের মধ্যে উচ্চবিত্ত পরিবারের অনেক সন্তানও রয়েছে। নেশার টাকা জোগাড় করতেই এসব কিশোর অপরাধে জড়াচ্ছে। টিনএজ বা কম বয়সের অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে।

আমরা একথা জানি যে, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো পিছিয়ে আছে। প্রযুক্তির আবিষ্কার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে উন্নত দেশগুলো। আমাদের দেশেও এখন ঐসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ইতিবাচক দিকগুলো তো স্পষ্ট, তবে এর নেতিবাচক দিকগুলোর ব্যাপকতা ও মাত্রা কেমন তাও আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। নইলে হিতে বিপরীতের আশঙ্কাই বাস্তব বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এখন তো বলা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের অসামাজিক করে তুলেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও সময়ের অপচয়ের অভিযোগ তো আছেই। আর স্মার্টফোন তো এখন পরিবার ও সমাজের জন্য অনেকক্ষেত্রে আপদের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনের কথা বলে কিশোর– কিশোরী ও তরুণ– তরুণীরা অভিভাবকের কাছে স্মার্টফোনের আবদার করে থাকেন। অভিভাবকরাও মমতার বশবর্তী হয়ে সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে করণীয়

মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অধ্যায় হলো কৈশোরকাল। এটি এমন এক সময় যখন একজন ব্যক্তি বয়স ও বুদ্ধি এ উভয়দিক থেকে ক্রমশ এগিয়ে যেতে থাকে বটে, তবে যথার্থ অর্থে বয়সী তথা প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে না। প্রাকৃতিকভাবে জীবনের এ সন্ধিক্ষণটি হয় স্বাপ্নিক ও কৌতূহলোদ্দীপক। এ সময়ে সে জানতে চায়, জানাতে চায়। জানতে ও জানাতে গিয়ে যদি বাধাগ্রস্ত হয় বা হোঁচট খায় তাহলে সে মূক ও বিমূঢ় হয়ে পড়ে, বিভ্রান্তি তাকে অপরাধী করে তোলে, নিয়ে যায় সর্বনাশার অতল গহ্বরে। অন্যদিকে যদি সে অবলীলায় জানতে পারে, জাতে পারে, উত্তর পায়, মানসিক আশ্রয় ও অবলম্বন পায়, নৈতিক দীক্ষা ও প্রেরণা পায় তাহলে তার অগ্রগতি-অগ্রযাত্রার হয়ে ওঠে অনিবার্যভাবে সুন্দর, শাশ্বত ও সাবলীল।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনোমানুষই অপরাধী হয়ে জন্মায় না। পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নানাবিধ কারণে আবেগ ও পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাবে মানুষ অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। সুতরাং কিশোর অপরাধীরা পেশাদার অপরাধীদের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হচ্ছে তো অনুনন্ধানপূর্বক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। এজন্য সবার আগে দরকার গ্রাম কিংবা শহর, পাড়া কিংবা মহল্লায় সর্বত্র ভালো পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষিত সজ্জন ও অভিভাবক শ্রেণীর সম্মিলিত প্রয়াস। অধ্যয়ন, সৃজনশীলতা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। পরিবার, সমাজ ও স্কুলের পরিবেশ হওয়া দরকার আনন্দময় ও প্রণোদনাপূর্ণ।

এ সর্বনাশা ছোবল থেকে আমাদের কিশোর-কিশোরীদেরকে রক্ষা করতে হবে

গোটা জাতি যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন শিশু-কিশোরদের ওপরেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এই কিশোররাই যে এখনো সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠেনি এটাই আমাদের সৌভাগ্য। তবে এখনো সময় আছে, আমরা সাবধান হতে পারি। এ কাজে সর্বাগ্রে রাজনীতিকদের এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো একটি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে পুলিশ বাহিনীকে। অনৈতিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নৈতিকতার দ্বৈরথে চেপে সমাজের জঞ্জাল সরানোর কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।

আমরা মনে করি, এই দুই বিভাগ সততার সঙ্গে এগিয়ে এলে কিশোর অপরাধের মাত্রা শূন্যতে নেমে আসতে বাধ্য এবং এটাই আমাদের প্রত্যাশা।