চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

পটিয়ায় ইট পাথরে আঘাতে গৃহবধু খুন, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২০ ১৪:১৫:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০১-২০ ২৩:৩৩:১৯

পটিয়া উপজেলার পৌরসভা এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় জয়নাব বেগম (৩৪) এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহত জয়নাব বেগম পৌর সদরের নুরুল আবছারের স্ত্রী।

আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে দু পক্ষরে মধ্যে সংর্ঘষের সময় ইট পাথরে আঘাতে জয়নাব বেগম আহত হয়।পরে দুপুরের দিকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃতু্য হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

তা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়েছে নিহতের আত্মীয়-স্বজন। তাদের দাবী, খুনিকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এক ঘন্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

একটি কমিউনিটি সেন্টারের জায়গাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটে। কমিউনিটি সেন্টারের মালিকের নাম গিয়াস। সে গৃহবধুকে পাথর নিক্ষেপ করে বলে জানা যায়।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেথ মো. নেয়ামতউল্লাহ বলেন, যিনি খুন হয়েছেন তাদের বাড়ির পাশেই একটি কমিউনিটি সেন্টার আছে। ওই কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর নিয়ে জয়নাব বেগমদের বিরোধ আছে। আজ সকালে ঝগড়া হয়েছে। এরপর খুনের ঘটনা ঘটেছে। পাথর ছুঁড়ে মারার পর সেটা মাথায় লেগে মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এছাড়া লোহার রড দিয়ে পেটানোর বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ।

ঘটনাস্থলে আছেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ইমরান ভুইঁয়া। তিনি বলেন, আমরা দু পক্ষকে ডেকে সমযোতা করার চেষ্টা করছি। আশা করছি কিছুক্ষণের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

জানা যায়, পটিয়া পৌরসভায় ভূমি অফিসের সামনে গাজী কনভেনশন সেন্টার নামে কমিউনিটি সেন্টার এবং চারতলা আবাসিক ভবনটি পাশাপাশি। গাজী কনভেনশন সেন্টারের মালিক প্রবাসী গাজী মো.আসলাম। তার ভাই পটিয়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী মো.আবু তাহের কমিউনিটি সেন্টারের দেখভাল করেন।

আর চারতলা ভবনের মালিক প্রবাসী নূরুল আলম। কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর ওই ভবনের দুই ফুট জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল।

চারদিন আগে সেই সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গাজী আসলামের আরেক ভাই গাজী গিয়াস বাদি হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৭টা থেকে কমিউনিটি সেন্টারে শত শত তরুণ-যুবকের জমায়েত হয়। তাদের উপস্থিতিতে কমিউনিটি সেন্টারের মালিকপক্ষ সেখানে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ শুরু করেন।

এসময় নূরুল আলমের স্ত্রী জয়নাব বেগম প্রতিবাদ করলে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাদের বাসায় ঢুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে। আবার একই সময়ে ভবনটি লক্ষ্য করে কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাথর ছুঁড়তে দেখার কথাও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র। গুরুতর আহত জয়নাবকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।