চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮

রামগড়ে সিন্ডিকেটে বেড়েছে ইটের দাম; ছোট ইটে প্রতারিত গ্রাহক: নিরব প্রশাসন

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২০ ১০:৪৩:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০১-২০ ১০:৪৩:১৫

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ইটভাটা মালিক সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছেন সর্বস্থরের ইট ক্রেতারা। এক বছরের মাথায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি হাজার ইটে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর (২০১৭) ইটভাটাগুলির প্রথম দিকের ইটের মূল্য ৪ হাজার ৫শত টাকা এবং কংক্রিট ৫ হাজার ৫ শত টাকা নির্ধারিত হলেও এবার (২০১৮) সালে প্রতি হাজার ইটের মূল্য নেয়া হচ্ছে ৭ হাজার টাকা এবং কংক্রিট ৭ হাজার ৫ শত টাকা। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ছাড়াও ভাটা মালিকেরা বছরের পর বছর ছোট আকারের ইট তৈরী করে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন। নির্মান সামগ্রী ইট তৈরীর জন্য বিএসটিআই নির্ধারিত প্রতিটি ইটের দৈর্ঘ্য ২৪ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১১.৫০ সেন্টিমিটার ও উচ্চতা ৭ সেন্টিমিটার থাকা উচিত। অথচ রামগড়ের প্রতিটি ইটভাটায় ইটের সাইজ এক এক রকম। হঠাৎ ইটের মূল্য বৃদ্ধি ও সাইজে ছোট ইট তৈরী করার পরও প্রশাসনের কোন ভুক্ষেপ নেই। এতে করে দুই দিক দিয়ে প্রতারিত ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া রামগড়ে গড়ে উঠা ছয়টি ইটভাটায় অবাধে পোঁড়ানো হচ্ছে পাহাড়ের মূল্যবান বনজ ও ওষুধি গাছ। এসব ভাঁটায় পাহাড়ের মাটি, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি, কোন কোন ভাটা গণবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এবং সরকারী জায়গা দখল করে নির্মানের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৮৯ ও ২০০১ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৭ নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না ও ১২০ ফুট চিমনি ব্যবহার করার বিধান এবং কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ এবং ঘনবসতিতে ইটভাটা নির্মান না করার আইন থাকলেও এখানকার ইটভাটাগুলো এর কোনটিই মানছেন না।

স্থানিয় ও জাতীয় দৈনিকে ইটভাটাগুলির নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ হলেও বরাবরই নীবর থাকছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিবছর যৎসামান্য জরিমানা ছাড়া তেমন কোন প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়না। প্রতিবছরের জরিমানা পুজির একটা অংশ মনে করছেন ভাটা মালিকরা। এছাড়া ব্যাপক অনিয়মের পরেও নেই কোন মনিটরি সেল। ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষনে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে জনমত নিরাশ হচ্ছেন।

ক্রেতা সিরাজ উদ্দিন ও রুম্বচাই মারমা বলেন, অবৈধ ইটভাটার পাশাপাশি ভাঁটাগুলিতে নির্বিচারে চারা গাছ পোঁড়ানো হচ্ছে। ইটের সাইজ ছোট করে তৈরী করা ও টিনের চিমনী ব্যবহার করে পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে তারপরও দাম রাখা হচ্ছে বেশী। এ সুযোগে ইটভাটার মালিকগুলি রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে উঠছে আর প্রতি বছর বাড়ছে নতুন নতুন ইটভাটা।

দাম বাড়ানোর ব্যাপারে কয়েকটি ইটভাটার ম্যানেজাররা জানান, মাটি ও লাকড়ির দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক বেতন সহ বৈরী পরিবেশের কারণে ইটের দামও বেড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মামুন মিয়া বলেন, ইটভাটার বেআইনি কাজ বন্ধে প্রশাসন সবসময় তৎপর। আইন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন ইটভাটা তৈরীর অনুমতি নেই। যে কয়টি পুরনো আছে সেগুলোকে বিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। আর এ সুযোগটি যদি কোন ভাটার মালিক অবৈধ ভাবে নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাছ পোড়ানো, ফসলি জমির মাটি ব্যবহার এবং সরকারী জায়গায় ইট ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও তিনি জানান।