চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

অনুসন্ধিৎসু – পর্ব ০১ :: সাড়ে চার হাজার বছরের প্রাচীন চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৯ ০১:০৯:১৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৯ ০১:০৯:১৬

চট্টগ্রাম সম্পর্কে জানাতে সিটিজি টাইমস ডটকমের নিয়মিত আয়োজন অনুসন্ধিৎসু -এর এই পর্বে রয়েছে সাড়ে চার হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস : প্রসঙ্গ চট্টগ্রাম বিষয় নিয়ে রিপোর্ট৷ 

প্রাচীন এ চট্টগ্রামের বয়স নির্ণয় নিয়ে বেশকিছু মতেবিরোধ আছে। ধারণার ওপর বলা হতো হাজার বছরের চট্টগ্রাম। তবে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর ৩৫ বছর পূর্তিতে বিশেষ সংখ্যায় হাজার বছরের চট্টগ্রাম বলা হয়েছে।

অবশ্যই আমরা চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চাকেন্দ্র ও প্রত্নতত্ত্ব আলোকচিত্রি মিউজিয়াম ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের এক হাজার বছর পূর্তি উৎসব করলে অনেক ইতিহাস গবেষক এর প্রতিক্রিয়ায় হাজার বছরের কথায় তাদের মতবিরোধ লক্ষণীয় ছিল। আর আমাদের চট্টগ্রামের ওপর যারা ইতিহাস গবেষণা ও রচনা করেছেন তারা সবাই যারযার তথ্য-উপাত্তের ওপর লিখেছেন। কিন্তু ২০০৮ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস মেধাবী ছাত্র মোঃ শাহীনুজ্জামান (শাহীন) তার গবেষণায় প্রমাণ করছেন এ চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানব বসতি ছিল। তিনি চট্টগ্রামে নব্য প্রস্তর যুগের প্রত্ন নির্দশন আবিষ্কার করেন।

‘২০১২ সালের ১৯ এপ্রিলে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চাকেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিজ্ঞ আলোচকগণ বলেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রত্ননিদর্শন ও ঐ যুগের সূত্রের মাধ্যমে ইতিহাস রচিত হলে চট্টগ্রামই বাঙালী জাতিগোষ্ঠীর বীজকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হবে। কেননা ইতিহাস গবেষণা ও ২০০৮ সালের ঢাকা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুসন্ধানী প্রত্নতত্ত্ব গবেষক শাহীনুর জ্জামান দীর্ঘদিন গবেষণা অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া দুটি প্রাগৈতিহাসিক যুগের নির্দশনে প্রমাণিত হয়েছে যে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানব বসবাস ছিল।

নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা এমনিতেই অনুমান করতেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের এলাকায় আজ হতে ৩/৪ হাজার বছর আগে ও মানব বসতি ছিল, ১৯ এপ্রিল ২০১২, দৈনিক আজাদী’, ভারতীয় সভ্যতার অমূল্য স্বাক্ষর মহাভারতের বিভিন্ন স্লোকে চট্টগ্রামের আদিনাথ, চন্দ্রনাথ, কাঞ্চন নাথের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সূত্রে যদি মহাভারত সাড়ে ছয় হাজার বছর আগে রচিত হয়, আর উল্লিখিত তিনটি স্থান যথাযত চট্টগ্রামের হয়, তাহলে চট্টগ্রামের বয়স সাড়ে ছয় হাজার বছর ও হতে পারে।

প্রাচীন এ চট্টগ্রামের বয়সের ভারে যতদিন অতিবাহিত হচ্ছে, ততই সমৃদ্ধির সাথে এগিয়ে চলছে আধুনিক বিশ্বের সাথে। সেই প্রাচীন সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত এ চট্টগ্রামের ৩৭টি নাম পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম বা চিটাগাং এসে দাঁড়িয়েছে।

প্রাচীন সে নামগুলো ১) আদর্শদেশ, ২) সুহ্মদেশ, ৩) ক্লিং বা কালেন, (৪) রম্যভূমি, (৫) চিতাগাঁও, চিৎগাঁও, ৬) চট্টল, ৭) চৈত্যগ্রাম, ৮) সপ্তগ্রাম, ৯) চট্টলা, ১০) চট্টগ্রাম, ১১) চক্রশালা, ১২) চন্দ্রনাথ, ১৩) চরতল, ১৪) চিতাগঞ্জ, ১৫) চাটিগাঁ, ১৬) শ্রীচট্টল ১৭) সাতগাঁও, ১৮) সীতাগঙ্গা, (সীতাগাঙ্গ, ১৯) সতের কাউন, ২০) পুষ্পপুর, ২১) রামেশ, ২২) কর্ণবুল, ২৩) সহরেসবুজ, ২৪) পার্ব্বতী, ২৫) খোর্দ্দ-আবাদ, ২৬) Porto grando (বৃহৎ বন্দর), ২৭) ফতেয়াবাদ, ২৮) আনক, ২৯) রোশাং, ৩০) ইসলামাবাদ, ৩১) মগরাজ্য, ৩২) Chittangon. ৩৩) কিরাত, ৩৪) যতরকুল, ৩৫) চক্রশা, ৩৬) শ্রীযুক্ত কেলিশহর এবং ৩৭) পেন্টাপোলিস।

চলবে …..