চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামের এসএসসিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের তদন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশ করার আহবান

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৮ ২২:৩১:৩০ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৮ ২২:৩১:৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে বাড়তি ফিস আদায় তদন্তে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড তদন্ত কমিটি গঠনের সংবাদে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে, পাশাপাশি তদন্ত দলে ভোক্তা ও অভিভাবকদের প্রতিনিধি হিসাবে ক্যাব প্রতিনিধি অন্তভুক্তকরণ, তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যম ও বোর্ডের ওয়েব সাইটে প্রকাশ, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম নিয়ে শিক্ষা বোর্ড তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ যেভাবে হয় না, তেমনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহনের দৃষ্টান্ত নেই। অন্যদিকে তদন্ত কমিটিতে যাদেরকে রাখা হয় তারা কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বিধায় তারা হস্তক্ষেপমুক্ত ভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সক্ষম হয় না। তাই এই সমস্ত তদন্ত টিমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতে যুক্ত নয়, ভোক্তা/অভিভাবক প্রতিনিধি হিসাবে ক্যাব প্রতিনিধি অর্ন্তভুক্ত করা হলে তদন্ত টিমে আরো প্রভাবমুক্ত ভাবে তদন্ত টিমকে সহায়তা করতে পারবে। একই সাথে এ পর্যন্ত কোন দতন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ ও তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহনের নজির না থাকায় বারবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরণের অপকর্ম করে যাচ্ছে। যা রোধ করা যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অপকর্মের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় এ ধরনের অনিয়ম দিনে দিনে ক্রমাগত বাড়ছে।

ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলে চালের আড়ত, মাছের আড়ত, রিয়েলস্টেট, গার্মেন্টস ও অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষা ব্যবসা নেমে পড়েছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী। আর তারা এসমস্ত শিক্ষা দোকান খুলে ভর্তিতে সরকারী নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে গলাকাটা ফিস আদায়, উন্নয়ন ফিস, ল্যাব ফিস, টিসির নামে পুরো বছরের ফিস আদায়সহ নানা নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করছে। আবার মধ্য সাময়ীকি পরীক্ষার সময় অনুপস্থিতি জরিমানাসহ নামে বেনামে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করার সময় বিভিন্ন ফিস আদায় করছে। এছাড়াও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফিসের উপর নির্ভর করে পরিচালনা করলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কোন কার্যকর যোগাযোগ নেই, অভিভাবক সভা নিয়মিত হয় না, অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে যেতে পারেন না। এ অবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত, অভিভাবকদের ভোগান্তি, হয়রানি ও অনিয়ম রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে শিক্ষা প্রশাসন, অভিভাবক প্রতিনিধি নিয়ে ত্রৈমাসিক/ষান্মাষিক সমন্বয় সভা আয়োজনের দাবি করা হলেও শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসন কোন কার্যকরউদ্যোগ গ্রহন করেনি। যা খুবই দুঃখজনক। অন্যদিকে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পরিচালনা পর্ষদে অভিভাবকদের অংশগ্রহন যেমনই নেই তেমনি শিক্ষা বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহন নিশ্চিত না করে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করছে যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।

ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, সেখানে শিক্ষা মন্ত্রালয় ও শিক্ষা বোর্ড নিরব। যার কারনে ভর্তি বানিজ্য, কোচিং বানিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জর্জরিত হয়ে ডুবতে বসেছে। যা পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

সংবাদপত্রে পাঠানো এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, প্রমুখ।