চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে রেহাই পেল দুই স্কুলছাত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৮ ১৮:৫২:২৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৯ ০১:১৫:২১

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস 

ছুটির ঘন্টা চলচ্চিত্রের মতো স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলায় তালাবদ্ধ ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি মণি ও মণি দে। প্রায় ৭ ঘন্টা আটকা থাকার পর তাদের কান্না শুনে স্থানীয় এক কিশোর দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম মহানগর কোতোয়ালি থানার সরকারি ন্যাশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে আজ বৃহ¯পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে কিশোর মো. শের খান।

শের খান জানায়, আমি স্কুল ভবনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ শুনতে পাই শিশুর কান্না। কান খাড়া করে শুনে মনে হলো স্কুল ভবনের দিকে। মূল ফটক বন্ধ ছিল। পেছন দিয়ে দেয়াল টপকে কয়েকজন শিশুসহ আমরা ঢুকলাম। তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করলাম।

খবর পেয়ে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকা থেকে স্কুলে ছুটে আসেন স্মৃতি মণির মা ফিরোজা বেগম। তিনি বলেন, লোকমুখে খবর পেলাম আমার মেয়ে স্কুল আটকা পড়েছে। পড়ি মরি করে ছুটে এলাম। উদ্ধার না হলে আমার মেয়ে সেখানে আটকা থাকত। বড় অঘটন ঘটতে পারত

তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকালে আমার মেয়ে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। কিন্তু সে সময় মতো ফিরে না আাসায় খোঁজাখুজি করি। কিন্তু সে যে স্কুল ভবনের শ্রেণিকক্ষে আটকা পড়েছে তা আমার ধারণায়ও আসেনি। এ জন্য তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ি করেন।

স্মৃতি মণি ও মণি দে জানায়, স্কুল ছুটির পর সবাই যখন চলে যাচ্ছল তখন তারা ফুচকা কিনে এনে শ্রেণিকক্ষে বসে খাচ্ছিল। পরে ভবনের কলাপসিবল গেইটে তালাবদ্ধ দেখে তারা কান্না শুরু করে।

এ ব্যাপারের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বদরুন নেছা বলেন, আয়া ভবনের কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে যান। তবে আয়ার উচিত ছিল ভেতরে ঢুকে শ্রেণিকক্ষে কোন ছাত্র-ছাত্রী আছে কি না তা দেখে নেওয়া। আগামীতে এ ব্যাপারে আমরা আরও মনোযোগী হব।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে আছে ১৫০ জন। দোতলায় তাদের শ্রেণিকক্ষ। আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো খোলা থাকে। ভবনের ফটকে কলাপসিবল গেটে তালা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে স্কুল ভবনে ছুটে আসেন জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা মজুমদার। শৈবাল দাশ সুমন এ সময় বলেন, অভিভাবকদের হাতে দুই শিশুতে তুলে দেব আমরা। একজনের মা-বাবা এসেছেন। অন্যজনকে প্রয়োজনে গাড়িতে করে পৌঁছে দেবেন।

ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষক, কর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করব। এ যাত্রা চলচ্চিত্রের আরেকটি ছুটির ঘন্টার পুনরাবৃত্তি থেকে দুই ছাত্রী রক্ষা পেল বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।