চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রাম-মহসিন কলেজে এলাকায় ‘আধিপত্য’ নিয়ে বিরোধে কলেজিয়েটের ছাত্র খুন

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৮ ২৩:৫৯:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৯ ১০:৫০:০০

মহসিন কলেজের মাঠে খেলা, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ এবং হিরোইজম প্রদর্শন করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটার কথা জানিয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-দক্ষিণ) শাহ মো.আব্দুর রউফ বলেন, স্কুলছাত্র আদনান ইসফার (১৫) খুনে জড়িত যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা নগরীর চকবাজার-গণি বেকারি এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত।

গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন, নগরীর চান্দগাঁওয়ের হাজেরা তজু কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মঈন খাঁন, সাব্বির খান ও মুনতাছির মোস্তফা, চকবাজার ডিসি রোডের হলি ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী এখলাছ উদ্দীন আরমান এবং ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পাস করা আবদুল্লাহ আল সাঈদ। তাদের সবার বয়স ১৮ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে শুধুমাত্র মুনতাছির মোস্তফাকে নগরীর বাদুরতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযান টিমে থাকা কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যক্ষভাবে জড়িত চারজন ফটিকছড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম কলেজ-মহসিন কলেজে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কিশোর বয়সী এসব কর্মীদের ব্যবহার করেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। হত্যাকাণ্ডের সময় খুনিরা যে পিস্তল ব্যবহার করেছিলেন সেটি তাদের দিয়েছিলেন এলাকার এক রাজনৈতিক বড় ভাই।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর অপর পক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয় আদনান।এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা কিশোর ও সদ্য কৈশোর পার করা। গ্রেপ্তার মঈনের ছুরিকাঘাতে খুন হয় স্কুল ছাত্র আদনান।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে মহসিন কলেজের মাঠে খেলা নিয়ে আদনানের সাথে কিছু কিশোরের বিরোধ হয়।এর জের ধরে মঙ্গলবার ‍দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা পুলিশকে জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে আদনান ও তার কয়েকজন বন্ধু জামালখান এলাকায় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই ছাত্রকে ধাওয়া করে।
ধাওয়া খাওয়া দুই ছাত্র পালিয়ে গিয়ে ‘বড় ভাইদের’ (গ্রেপ্তারদের) জানায়। ওই সময় তারা এসে পাল্টা ধাওয়া দিয়ে আদনানকে ধরে মারধর করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওইদিন আদনানকে ধরে সাব্বির তাকে পিস্তল টেকিয়ে হুমকি দেয়। আর আরমান, সাঈদ তাকে লাটি দিয়ে মারধর করতে থাকলে সে একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে রাস্তায় পড়ে যায়।

এসময় মুনতাসির আদনানকে টেনে তোলার সময় তার পড়নে থাকা টি-শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং মঈন তাকে ছুরিকাঘাত করে।

ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে আদনান দৌঁড়ে খাস্তগীর স্কুলের দিকে পালিয়ে গেলে মঈন তখনও তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে সে রাস্তায় পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা রউফ বলেন, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে  ঘটনায় জড়িতরা আরমানের মৃত্যুর খবর পান। এরপর তারা বাদুরতলা এলাকায় চলে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা ফটিকছড়ির সমিতিরহাটে জনৈক ফয়সালের বাড়িতে পৌঁছান।

প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর জামালখান সড়কের ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে দুর্বৃত্তরা আদনানকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আদনান নগরীর কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর সন্নাসী হাট এলাকায় হলেও তারা নগরীর জামাল খান সড়কের প্রেসক্লাব ভবনের পেছনে আম্বিয়া আইরিস ভবনে থাকতেন।