চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ উদ্ধার, এসব লেখেন ১৮ ডাক্তার

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৭ ২১:১৭:৫০ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৮ ১৩:২১:২৭

চট্টগ্রাম নগরে ভেজাল ওষুধ ও ভেজাল ওষুধ প্যাকেজিংয়ের বিপুল পরিমাণ সামগ্রীসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে খুলশী থানার লালখান বাজার পশ্চিম হাইলেভেল রোড়ের একটি বাসায় এই অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতার মো. সাইদুল ইসলাম (৩৮) শরিয়তপুর জেলার নুরিয়া থানার নওগাঁও শেখ বাড়ীর বাসিন্দা আবুল হোসেন শেখের ছেলে।

সূত্রমতে, আটক সাইদুল জানিয়েছেন বন্দরনগরীর বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য চিকিৎসক মাসে মাত্র ১০-২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ভেজাল ওষুধ রোগীদের সেবনের জন্য ব্যবস্থাপত্রে নির্দেশনা দেন। এসব চিকিৎসকের মধ্যে ১৮ জনের নাম সাইদুল প্রকাশ করেছেন।

১৮ চিকিৎসক হলেন- এম এ রউফ, আলী আজগর, চন্দন কুমার, আশীষ কুমার চৌধুরী, সাকলিন, ফরহাদ আলী রাজু, রিপন দে, আবরার হাসান, শিমুল কুমার, মহিউদ্দিন সিকদার, আরমান, জসিম, অসীম বড়ুয়া, তৌহিদুল আলম, আব্দুর রব, সাদিক হোসেন, অনিক চৌধুরী এবং রাজীব চৌধুরী।

কয়েকজন চিকিৎসকের নাম পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি হননি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি-কাউন্টার টেরোরজিম) পলাশ কান্তি নাথ।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, অভিযানে ওই বাসায় নুটরিয়াজ নামের ওষুধের ১ হাজার ২৪০টি প্যাকেট পাওয়া যায়। এ ছাড়া একোজ সফ্টজেলস নামে ওষুধের ৬৭টি প্যাকেট, একিউরাল সফ্টজেলস নামের ওষুধের ২০টি প্যাকেট, কাফরাল ট্যাবলেট নামের ওষুধের ১ হাজার ৩০০ প্যাকেট, প্রোবায়োটিক-৪ ক্যাপসুলের ৬টি প্যাকেট, ফ্যাট লস গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট সফ্টজেল ক্যাপসুলের ৫টি প্যাকেট, উইন কেল ওষুধের ১৪টি প্যাকেট, উইন গোল্ড ওষুধের ১৪টি প্যাকেট, উইন প্লাসের ৮টি প্যাকেট, কাটিয়াম ওষুধের ১৭টি কৌটা, অ্যামিনো আল্ট্রা ওষুধের ৩০টি কৌটা, ইউনি পলেন ওষুধের ৩৫টি কৌটাসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটি) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম হাইলেভেল রোড়স্থ তাহের সাহেবের বিল্ডিয়ের নীচ তলায় সাইদুল ইসলামের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সাইদুল জানিয়েছে, বিভিন্ন নামীয় ভেজাল ওষুধ প্যাকেজিং করে তৈরী করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল সে। এ ছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারদের মাধ্যমে রোগীদের এসব ভেজাল ওষুধ প্রেসক্রাইব করে আসছিল সাইদুল। তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা হয়েছে।