চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

ইরানি জাহাজে অগ্নিকান্ডে নিহত মিরসরাইয়ের হারুনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৭ ১৮:২৩:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৭ ২০:৩৮:৫৫

ম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

উত্তর চীন সাগরে বিস্ফোরণের পর ডুবে যাওয়া তেলবাহী ইরানি জাহাজ ‘সাঁচি’র ৩২ ক্রুর মধ্যে নিহত হন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের হারুন আর রশিদ (৪৮)। গত ৬ জানুয়ারি দুর্ঘটনার পর তিন ক্রুর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বাকিদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। উদ্ধারকৃতদের এখনো শনাক্ত করা হয়নি। হারুন উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের বন্দে আলী চৌধুরী বাড়ীর মৃত ছাদেক আহম্মদের ৩য় পুত্র। সাঁচি জাহাজে হারুন-অর-রশিদ পাম্পম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদিকে হারুনের নিহতের খবরে শোকের মাতম চলছে তার গ্রামের বাড়িতে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবার। বাড়িতে হারুর-অর-রশিদের স্ত্রীর জান্নাতুল ফেরদৌস সাকি এবং তাবাচ্ছুম রশিদ নিহা ও ফাহসিন মাহমুদ নামে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে নবম শ্রেণী আর ছেলে ৫ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।

হারুনের বড় ভাই মোহাম্মদ শামসুল আলম টিপু জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী জাহাজে চাকরী করেন। সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর ঢাকা থেকে বিমান যোগে ইরানের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দেন। সেখানে গিয়ে সে তেলবাহী ইরানি জাহাজ ‘সাঁচি’তে উঠেন। ৬ জানুয়ারি জাহাজে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে বিভিন্নভাবে খবর নিতে থাকি। সর্বশেষ খবর পাই জাহাজের ৩২ জন ক্রুর মধ্যে কেউ বেঁচে নেই। তার মধ্যে উদ্ধারকৃত ৩ জনের লাশের মধ্যে আমার ভাইয়ের লাশ রয়েছে কিনা জানতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন আমি ও আমার বড় ভাই ঢাকায় অবস্থান করছি। আমাদের ডিএনএ পরীক্ষা করে সেখানে পাঠালে যদি আমার ভাইয়ের সাথে মিলে তাহলে লাশ সনাক্ত করা যাবে।

নিহত হারুনের ভাবি (বড় ভাইয়ের স্ত্রী) আকলিমা শরীফ রেখা বলেন, ‘আমার দেবর ইরান যেতে বিমানে উঠার পূর্বে আমার সাথে মোবাইলে কথা হয়েছিলো। সেটাই তাঁর সাথে শেষ কথা। এখন তো সে বেঁেচ নেই। কিন্তু যদি তার লাশটি পাই তাহলে মনকে সান্তনা দিতে পারবো। আমরা এখন তার লাশের অপেক্ষায় গ্রহর গুনছি।

ইরান কর্তৃপক্ষ গত রবিবার বলেছে, জাহাজটি আগুনে বিস্ফোরিত হয়ে ডুবে যাওয়ার পর তাঁদের বেঁচে থাকার আর সম্ভাবনা নেই। বিপুল পরিমাণ তেল থেকে সৃষ্ট আগুনে যে তাপ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। ইরান কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে শোক ও সমবেদনা এবং ক্রুদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনায় গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলবাহী ইরানি জাহাজ সাঁচিতে দুই বাংলাদেশি ও ৩০ জন ইরানি ক্রু ছিলেন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিশাল আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের সবাই নিহত হয়েছেন। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার আগে উদ্ধার করা দুটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সাংহাইয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জাহাজটির ব্লাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরো একটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সাংহাইয়ে পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি হংকংয়ের একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ইরানি জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় থেকেই ওই জাহাজের ৩২ আরোহীর খোঁজ মিলছিল না। চীনা পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সময় ৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) ইয়াংসি নদীর মোহনা থেকে সাগরের দিকে ১৬০ মাইল পূর্বে পানামায় নিবন্ধিত ইরানি তেল ট্যাংকারের সঙ্গে হংকংয়ে নিবন্ধিত মালবাহী জাহাজের সংঘর্ষ হয়। তেলবাহী ওই জাহাজটিতে ১১ হাজার ৫১০ টন কনডেনসেট, এক হাজার ৯৫৬ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও ১১৮ টন ডিজেল ছিল। মালবাহী জাহাজের ৩১ জন ক্রুর সবাই ছিলেন চীনা নাগরিক। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ২২৫ মিটার দীর্ঘ মালবাহী জাহাজ ‘সিএফ ক্রিস্টাল’ও সংঘর্ষে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ৬৪ হাজার টন খাদ্যশস্য নিয়ে চীনা শিপিং কম্পানির মালিকানাধীন জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের গুয়াংদং যাচ্ছিল।