চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

‘দিনদুপুরে ধর্ষণ থেকে আত্মরক্ষায় মঈনকে খুন করি’

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৭ ১৮:১০:০৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৮ ১০:১৪:২১

ফটিকছড়িতে মঈন হত্যার বর্ণনা দিলেন খুনী হামিদা রনি

মীর মাহফুজ আনাম

গত এক সপ্তাহ পূর্বে ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল হকের পুত্র ইলেকট্রেশিয়ান ও টার্কি খামারী মঈন উদ্দিন (২৮) নামক এক যুবককে চুরকিাঘাতে নাড়িভুঁড়ি বের করে হত্যার পর পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সাথে খুনীকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঈনকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করেছে খুনী হামিদা আকতার রনি (১৮) নামক তাদের বাড়ির পাশের এক কুমারী মেয়ে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, হত্যাকান্ডাটির রহস্য উদঘাটন করতে মঈন উদ্দিনের মোবাইলের কললিষ্টের সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকারী হামিদা আকতার রনি (১৮) কে সনাক্ত করা হয়।

আজ (বুধবার) সকালে তাকে নিজ বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিসহ গ্রেফতার করা হয়। রনি দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া হাজী তুফান আলী পল্লান বাড়ীর মো. ইউনুছের মেয়ে। গ্রেফতার হওয়ার পর রনি মঈনকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করে।

রনির ভাষ্যমতে, মঈণ উদ্দিন তাদের নির্মাণাধীন ঘরে বিগত এক বছর ধরে কাজ করে আসছিল। সেই সূত্রে রনির সাথে পরিচয় হয় এবং প্রায় সময় সরাসরি কিংবা মুঠোফোনে নানা বিষয় নিয়ে ফোনালাপ হতো। এক পর্যায়ে রনিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন মঈণ। প্রেম প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও আশা ছাড়েননি মঈণ।

হঠাৎ গত ৯ জানুয়ারী (লাশ উদ্ধার হওয়ার আগের দিন) সকাল ১১ টার দিকে রনি ঘরে একা রয়েছে খবর পেয়ে সেখানে যান মঈণ। এক পর্যায়ে রনিকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে ঘরে শশা কাটার ছুরি দিয়ে মঈনের পেটে আঘাত করে। নাড়িভূঁড়ি বের হয়ে ঘরেই তার মৃত্যু হয়। বিকালে নানার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া তার মা বাবা ও ভাই ফিরলে লাশ দেখতে পান।

তারা বিষয়টি জানার পর ওই দিন রাতের অন্ধকারে সবাই মিলে লাশটি বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে দেন। হত্যাকারী হামিদা আকতার রনি বর্তমানে ফটিকছড়ি থানায় রয়েছে। তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এ হত্যাকান্ডের পর মঈন উদ্দিনের বোন জামাই সাইফ উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।