চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

অদম্য মেধাবী ফারজানার স্বপ্ন পূরণে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৬ ১৬:১৪:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৬ ১৬:১৪:২৬

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

সহপাঠিরা যখন দুরপনায় মেতে উঠতো তখন চেয়ে দেখা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না ফারজানার। দারিদ্রতার নিদারুন কষ্ঠে বুকে পাথর চাপা দিয়ে সহ্য করা ছাড়া আরো কোনো উপায় ছিল না। তবুও থেমে থাকেনি ফারজানা। এগিয়ে গেছে নানা প্রতিকুলতা জয় করে। চালিয়ে গেছে লেখাপড়া। কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করলো এই হতভাগিনী। অজোপাড়া গাঁয়ের গন্ডি পেরিয়ে সুযোগে পেয়েছেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে। হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মিরসরাইয়ের ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নের মধ্যম মায়ানী গ্রামের সিএনজি চালক মোঃ এছাক মিয়ার জেষ্ঠকন্যা ফারজানা আক্তারের বাধা ডিঙ্গিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প এটি।

হতদরিদ্র পরিবারে ফারজানা দু’চোখে শুধুই অন্ধকার দেখছিল। চোখের সামনে অনিশ্চিত জীবন। পিতা এছাক মিয়ার বসত ভিটা ছাড়া জমিজমা নেই। নেই আয়ের বিকল্প পথ। তিন মেয়ের মধ্যে ফারজানা সবার বড়। অনার্সে ভর্তি হয়েও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিনত হচ্ছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চল মায়ানী থেকে চট্টগ্রাম শহরে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহর করতে না পেরে হতাশার সাগরে ভাসছিলেন সিএনজি চালক এছাক মিয়া।

এবার যেন অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদে আলো দেখা দিল। অনার্সের পড়ুয়া অদম্য মেধাবী ফারজানার স্বপ্ন পুরণে সারথী হলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি, খুলশী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। চট্টগ্রাম থেকে ছুটে গেলেন মায়ানীতে সিএনজি চালক এছাক মিয়ার বাড়িতে। এছাক মিয়ার বাড়ির উঠোনে পা রেখে স্তব্ধ হয়ে গিলেন তিনি। মনোযোগ দিয়ে শুনলেন দুর্দশার কথা। হাত বাড়ালেন মানবতার কল্যানে। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান তুলে দিয়ে এবং ফারজানাকে শিক্ষা জীবনের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার প্রতিশ্রতি দেন মাথার উপর থেকে অনিশ্চতার বোঝা থেকে মুক্ত করলেন।

নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, বাঁশের বেড়ার ঝুপড়ি ঘরে হতদরিদ্র পরিবারের এক টুকরো চাঁদের হাসি ‘ফারজানা’। ‘মধ্যম মায়ানীর মত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে পড়াশোনা সত্যিই দুষ্কর। অদম্য শিক্ষার্থী ফারজানার ভবিষ্যত লেখাপড়ার জন্য যা যা করতে হয় তাই আমি করব ইনশাহআল্লাহ। ফারজানার মতো এসব অদম্য মেধাবীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। একটু সহযোগিতা পেলেই তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এসব অদম্য মেধাবীদের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জানিয়ে ফারজানার বাবা সিএনজি চালক এছাক মিয়া বলেন, ‘ অভাব-অনটনের সংসারে বেড়ে উঠা মেয়েটি আবুতোরাব মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেছে। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পরও মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করিনি। আমার শরীরে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত মেয়েকে পড়ানোর ইচ্ছা আছে। মেয়েরও পড়ার বেশ আগ্রহ আছে। হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজে অনার্সে ভর্তি করানোর পর গ্রাম থেকে শহরে যাতায়াত করে পড়াশোনার করানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভর্তির টাকা জোগাড় করতেও খুব বেগ পেতে হয়েছিল। আদৌ মেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবো কিনা এ নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। লোকমুখে নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের কথা শুনেছিলাম তিনি মানবাতার ডাকে সর্বত্র হাত বাড়িয়ে দেন। হঠাৎ করে তিনি আমার বাড়িতে এসে আমার হতভাগিনী কন্যার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে নিলেন। সত্যিই আমি মুগ্ধ।

স্থাণীয় বাসিন্দা এম নুর উদ্দিন বাহার জানান, মা-বাবার দুঃখের সংসারে আলো জ্বালিয়েছে ফারজানা। মধ্যম মায়ানী গ্রামে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাবা-মায়ের অভাবের সংসার, তাই লেখাপড়া কতটুকু পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবে তা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তিত ছিল। তবে ফারজানার ‘পণ’ সে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে। তার ইচ্ছা পুরণ করেছেন নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। আমরা মায়ানীবাসী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।