চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে পার্কিংয়ের স্থান মার্কিং

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৫ ২২:১৫:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ২৩:২১:৫৭

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম শহরে যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে পার্কিংয়ের জায়গা মার্কিং করার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। গত এক সপ্তাহে নগরীর ব্যস্ততম ২৭টি সড়কে এই মার্কিং কাজ শেষ করেছে বলে জানান চসিকের পরিকল্পনা বিভাগ।

চসিকের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান একেএম রেজাউল করিম জানান, চট্টগ্রাম মহানগর একটি ব্যস্ততম নগরী। এই মহানগরে সড়কের তুলনায় ৭ গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করলেও পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে যত্রতত্র এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখার কারনে শহরে সবকটি সড়কে নিত্য যানজট সৃষ্টি হয়। এতে যেমন দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ, তেমনি দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে।

তাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেন। এই শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে নগরীর সবকটি সড়ক ও অব্যবহৃত অংশে পার্কিংয়ের জায়গা মার্কিং করার কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।

ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোতে পাকিংয়ের জায়গা মার্কিং করার কাজ শুরু করা হয়। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কের ২৮টি স্থানে পার্কিংয়ের জায়গা মার্কিং করার কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক কালুরঘাট-বিমান বন্দর সড়ক, লালখান বাজার-জামালখান সড়ক, বহদ্দারহাট কোতায়ালী সড়ক, বহদ্দারহাট-জমালখান সড়ক, মুরাদপুর-চকবাজার সড়ক, গরিবুল্লাহ শাহ-অলঙ্কার সড়ক, টাইগারপাস-নিউমার্কেট সড়কসহ ২৮টি সড়কের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে পার্কিংয়ের জায়গা মার্কিং করার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব মার্কিং করা পার্কিংয়ের স্থান ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্কিংয়ের জায়গা ব্যবহারে যানবাহন চালক ও মালিকদের সচেতন হতে হবে। পার্কিংয়ের স্থান ব্যবহার শুরু হলে চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসনের মাধ্যমে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশে সাদা রঙের মার্কিং দিয়ে পার্কিং ¯েপস নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি গাড়ির জন্য ৮ ফুট বাই ১৬ ফুট জায়গা রাখা হচ্ছে। সোজাসুজি মার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়ির জন্য সামনে-পেছনে দুই ফুট করে জায়গা খালি রাখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর কোনদেশে পার্কিং ছাড়া কোন সড়ক নেই। কিন্তু এদেশে সড়ক আছে পার্কিং নেই। ফলে যানবাহনে নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসী। নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে পার্কিংয়ের জায়গা মার্কিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা রোড পার্কিংয়ের জন্য জায়গাগুলো নির্ধারণ করেছি। যেসব স্থানে সড়কে জায়গা কম আছে সেখানে সোজাসুজি গাড়ি রাখার জন্য মার্কিং করছি। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা আছে সেখানে আড়াআড়ি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রে বেশি গাড়ি রাখা যাবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নগরী গড়ে উঠছে অপরিকল্পিতভাবে। এখানে বহুতল ভবনের নিচতলা পার্কিংয়ের জন্য বরাদ্দ হলেও বেশিরভাগ ভবনেই তা মানা হচ্ছে না। আবাসিক ভবনে স্কুল খোলা হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। শত শত মার্কেট হাজার হাজার গাড়ি।

অনেক অ্যাপার্টমেন্ট আছে যেখানে সাইনবোর্ড লেখা রয়েছে অতিথিদের গাড়ি বাইরে রাখুন। উন্নত বিশ্বের কোথাও এমনটি কল্পনাও করা যায় না। এক্ষেত্রে রোড পার্কিং সিস্টেম যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনিআরও বলেন, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে রোড পার্কিং চালু হচ্ছে। যাতে গাড়ির মালিক ও চালকরা অভ্যস্ত হয়ে যান। এরপর পর্যায়ক্রমে ঘণ্টা প্রতি ন্যুনতম ভাড়া ধার্য করা হতে পারে।