চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তালিজোড়া সেতু!

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১২ ১৫:০২:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৩ ১০:৪৫:৫২

শিক্ষার্থীসহ ৩ ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ চরমে

মো. হাবিবুর রহমান
রাউজান প্রতিনিধি

দীর্ঘ ২৭ বছরেও সংস্কার বা পূন:নির্মাণ না হওয়ায় রাউজান উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ফারিকুল সেতুটি এখন তালিজোড়া সেতু নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এটি উপজেলা পাহাড়তলী, বাগোয়ান ও পূর্বগুজরা ইউনিয়নে সংযোগ সেতু। এই সেতু পূণ:নির্মাণ না হওয়ার কারণে এই তিন ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় সীমাহীন দূর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দক্ষিণে কর্ণফুলী হতে প্রভাহিত হওয়া ফারির খাল বাগোয়ান, পাহাড়তলী, পূর্বগুজরা ও পশ্চিম গুজরার বুক চিরে পশ্চিমে হালদা নদীর সাথে সংযোগ হয়েছে। এই খালটির উপর ব্রিটিশ শাসন আমলে ফারিকুল বাজার নামক স্থানে লোহার কাঠামোর উপর নির্মিত হয়েছিল ফারিকুল সেতু। সেতুটির পূর্বে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড, পশ্চিমে বাগোয়ান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পুর্ব গুজরা ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যা সেতু সংযুক্ত রাউলি সড়ক দ্বারা বিভক্ত। জানা যায়, ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিল সেতুটির পূর্বে দিকে বেশকিছু অংশে ভেঙে খালে পড়ে যায়। এরপর হতে বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচল। বিপাকে পড়ে তিন ইউনিয়নবাসী সহ বিশাল জনগোষ্ঠী।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় ১৪০ মিটারের দৈর্ঘ্য সেতুটি লোহার কাঠামোগুলো বেশ নড়েবড়ে। সেতুটির পূর্বে প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত ভাঙা অংশে বাঁশ ও বাঁশের বেড়া দ্বারা তালিজোড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে চালার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেতুটির মাঝখানে কয়েকটি অংশেও সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। আর পশ্চিমে সেতুটি সংযোগ সড়ক হতে প্রায় ৬-৭ ফুট উঁচু থাকায় সাময়িক চলাচলের জন্য বালি ভর্তি বস্তা দ্বারা ধাপ বানানো আছে। এই সেতুর উপর দিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধদের চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী।

সেতুটির সংযোগ রাউলি সড়ক পূর্বে হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের পাহাড়তলীর উনসত্তর পাড়া হতে শুরু হয়ে পশ্চিমে বাগোয়ান ও পূর্ব গুজরা হয়ে রঘু নন্দন চৌধুরী হাট নামক স্থানে নোয়াপাড়া সেকশন-২ সড়কের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। সড়কটির পূর্বে পাহাড়তলী ইউনিয়ন অংশে রয়েছে খৈয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়, খৈয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌর সংকর হাট, ঊনসত্তরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিমে বাগোয়ান ও পূর্বগুজরা অংশে রয়েছে ফারিকুল বাজার, মোহাম্মদীয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, পূর্বগুজরা উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম গুজরা উচ্চ বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেন। এছাড়া সেতুটির উভয় দিকে রয়েছে মুসলিম, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপসনালয় ও অনাথালয়। এই জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ধীর্ঘ সাতাশ বছরেও পূন:নির্মান না হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ধর্মীয় উপসনালয়ের ধর্মীয় গুরু ও উপাসকগণ এবং এই অঞ্চলের কৃষকগণদের চলচলে দুর্ভোগের অন্ত নেই। এই অঞ্চলের সকল ধর্মের কিশোর. যুবক, বৃদ্ধ সকলের প্রাণের দাবী ফারিকুল সেতুর পুণঃনির্মান।

সেতু সংলগ্ন ফারিকুল বাজারের একটি চায়ের দোকানে ৭৫ বছর বয়সী স্থানীয় বৃদ্ধ হাজী রমজান আলী তালুকদারের সাথে কথা হয় ইত্তেফাক প্রতিবেদকের, বিগত ৮ বছর ধরে সেতু মাপঝোপ করে নিয়ে যায় কিন্তু টেন্ডার হবে হবে বলেও সেতু হয় না। তিনি সহ তার এলাকার অনেক মানুষের চাষের জমি সেতুর পূর্ব পাড়ে। এখন চলাচলের অসুবিধার কারণে অনেকে চাষ করে না। যারা করে তারা অনেক কষ্ট করে ফসল ঘরে তুলে। তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়। এই ভাঙ্গা সেতু দিয়ে চলতে গিয়ে অনেক শিশু,নারী,বৃদ্ধ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এই প্রাচীন বাজারটিও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিলুপ্ত প্রায়। সেতুটির পশ্চিম অংশে তিনি মাটি দিয়ে বেশ কয়েকবার ভরাট করেছে। আর পূর্ব দিকে গুরু ভান্তে বাঁশ দিয়ে মেরামত করেন।

এই সেতু সংলগ্ন তিন ইউনিয়ন পূর্বগুজরা, বাগোয়ান ও পাহাড়তলীর ইউপি চেয়ারম্যান যথাক্রমে আব্বাস উদ্দি আহমেদ, ভুপেশ বড়য়া ও রোকন উদ্দিনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা জানান, স্থানীয় সংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী উদ্যোগী হয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে সেতুটি পরিমাপ করে সেতুটি নির্মানে প্রায় চার কোটি টাকার ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। যা অনুমোদন হলেই কাজের টেন্ডার হবে। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী সেতুটি মাপঝোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা হউক।