চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মিঠুন চাকমা হত্যা: মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি’র ঘোষণা

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১১ ১৭:১২:৪১ || আপডেট: ২০১৮-০১-১১ ১৭:১২:৪১

মো: মাইনউদ্দিন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(এমএন) লারমা গ্রুপের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জেএসএস’র(এমএন) লারমা গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত সম্মেলনে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামীকাল ১২ জানুয়ারি (শুক্রবার) জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নেতাকর্মীরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কেন্দ্রীয় জেএসএস(এমএন) লারমা গ্রুপের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল কান্তি চাকমা, রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক বিভূ রঞ্জন চাকমা, যুব বিষয়ক সম্পাদক প্রীতিময় চাকমা ও কেন্দ্রীয় নেতা সোহাগ চাকমা।

সাংবাদিক সম্মেলনে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমার প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার দাবি করে বলেন, আমরাও মিঠুন হত্যাকান্ডের নিন্দা জানাই। পরিবার মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। পুলিশের মামলায় মিঠুন চাকমা হত্যাকান্ডকে ইউপিডিএফ’র বিবাদমান গ্রুপের ভিতর রাজনৈতিক, আদর্শিক এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আভ্যন্তরীন কোন্দল বলে উল্লেখ করেছে।

পুলিশ প্রশাসন ত্যন্ত তৎপরতার সাথে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। অথচ গত ৯ জানুয়ারি জনৈক অনিক বিকাশ চাকমা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছে। মামলায় জেএসএস(এমএন) লারমা গ্রুপের চার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ ১৭জনকে আসামি করে আরো একটি মামলা করেছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অনি বিকাশ চাকমা তার এজাহারে সুদর্শন চাকমার লাইসেন্স করা পয়েন্ট টুটু রাইফেল দিয়ে মিঠুন চাকমার মাথায় গুলি করা হয় উল্লেখ করা হলেও তদন্তে সুদর্শন চাকমার কাছে এ ধরনের কোন অস্ত্র নেই বলে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি শহরের স্লুইস গেইট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমা নিহত হয়।

ইউপিডিএফ মিঠুন চাকমা হত্যাকান্ডের জন্য নব গঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করে আসছে। তবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এ হত্যাকান্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেছেন, এটি প্রসীতের ইউপিডিএফ’র আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে হয়েছে।

এদিকে ঘটনার চারদিন পর গেল ৬ জানুয়ারি এসআই একেএম মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমা হত্যাকান্ডে ৭/৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে।

অপর দিকে, ৯ জানুয়ারি জনৈক অনি বিকাশ চাকমা নিজেকে নিহত মিঠুন চাকমার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জেএসএস(এমএন) গ্রুপের ১৭জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।