চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম নগরীতে জন্মসনদ পেতে ভোগান্তি, সন্তানদের ভর্তিতে বিপাকে অভিভাবক

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১১ ২৩:৫৯:০৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-১২ ১০:৩৩:১৩

আখতার হোসাইন 

চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জন্মসনদ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

সার্ভার জটিলতার কারণে অনলাইন থেকে জন্মসনদ পেতে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে করে নতুন বছরের শুরুতে স্কুল ভর্তিচ্ছু শিশু সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে অভিভাবকরা। একইভাবে বিপত্তিতে পড়ছেন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে আসা লোকজনও।

এনিয়ে জন্মসনদ সার্ভার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) বারংবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও প্রতিকার মিলছে না। তবে চসিকের দাবি নগর জুড়ে এ সমস্যা নেই। মাত্র চারটি ওয়ার্ডে সমস্যা ছিল, যা আস্তে আস্তে সমাধান হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। গত দুই মাস ধরে সার্ভার সমস্যার কারণে অত্যন্ত ধীর গতিতে তথ্য ইনপুট করা যাচ্ছে। ফলে আবেদনকারীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগ আছে, নতুন নিবন্ধনে সার্ভারে ধীরগতির পাশাপাশি পুরোনো নিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ রেখেছেন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। ইতোমধ্যে হাতে লিখা জন্মনিবন্ধন সনদকে অনলাইনে অন্তভূর্ক্তি জটিলতা কাটানোর জন্য নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা লিখিতভাবে জানিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে , তবে এখনো পর্যন্ত তারা কোন প্রতিকার মিলেনি।

চসিক সূত্র জানায়, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মসনদ দেওয়া হয়। প্রতি ওয়ার্ডে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত জন্ম সনদের জন্য আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০টি ডিজিটাল সনদপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু গত দুই মাস ধরে অধিকাংশ ওয়ার্ডে আবেদন অনুযায়ী কাঙ্খিত সনদ দেওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী নগরীর বহদ্দরহাট খাঁজা রোড় এলাকার বাদামতলার নজরুল ইসলাম বলেন, ছেলের প্রথম শ্রেনীতে ভর্তিতে জন্ম সনদের প্রয়োজন ছিল। গত ২৫ ডিসেম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে এব্যাপারে আবেদন করা হয়। কিন্তু ১০দিনেও তিনি জন্মসনদ পাননি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার কাছে জানতে চাইলে তিনি সিটিজি টাইম্‌সকে বলেন, নগর জুড়ে এ সমস্যা নেই। তবে চারটি ওয়ার্ডে সার্ভারের সমস্যা ছিল। এজন্য ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সমস্যাগুলো কেটে উঠলে ওই এলাকাগুলোতে জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

পাথরঘাটার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইসমাইল বালি বলেন, ‘সার্ভার সমস্যার কারণে নাগরিক সনদ দিতে অত্যন্ত ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল ভর্তির সময় হওয়ায় নিবন্ধন সনদগুলো জরুরী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এনালগ পদ্ধতিতে করা সনদগুলোও ডাটাও ইনপুট করা যাচ্ছে না। তারাও আমাদের বিরক্ত করছে। ৪১ ওয়ার্ডেই এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এখানে আমাদের কোন হাত নেই। ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চিঠি দিয়েও পরিত্রাণ মিলছে না।’